আগামী সেপ্টেম্বরে চালু হচ্ছে ইটিএফ

আপডেট : ০১ জুন ২০২২, ১০:৩১

আগামী সেপ্টেম্বরে দেশের শেয়ারবাজারে চালু হবে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো আরেক পণ্য এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ)। তবে এই ইটিএফ থেকে নির্দিষ্ট সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে। চাইলেই যে কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা যাবে না। এছাড়া একই সময়ে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডও (এটিবি) চালু হবে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। এতে ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) সাইফুর রহমান মজুমদার ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) জিয়াউল করিম উপস্হিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারিক আমিন ভূইয়া বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে ইটিএফ চালু হবে। এটা অনেকটা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো, যা অ্যাসেট ম্যানেজার দ্বারা পরিচালিত হবে এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ন্যায় ট্রাস্টি থাকবে। এছাড়া ইটিএফ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে এবং লভ্যাংশ দেবে। তিনি বলেন, শুরুতে ৫০ কোটি টাকা দিয়ে ডিএসই-৩০ সূচকের কোম্পানিগুলো নিয়ে ইটিএফের যাত্রা শুরু করা হবে। এই ৫০ কোটি টাকা অনেকটা মিউচুয়াল ফান্ডের ন্যায় সংগ্রহ করা হবে এবং তা দিয়ে অ্যাসেট ম্যানেজার শুধু ডিএসই-৩০ সূচকের কোম্পানিতেই বিনিয়োগ করতে পারবে। এমনকি ঐ ৩০ সূচকের প্রতিটি কোম্পানিতে ওয়েটেড এভারেজ ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা হবে।

এ বিষয়ে ডিএসইর এমডি বলেন, ৫০ কোটি টাকার ইটিএফ গঠনের জন্য উদ্যোক্তা ১০ শতাংশ হারে ৫ কোটি টাকা এবং অ্যাসেট ম্যানেজার ২ শতাংশ হারে ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। বাকি ৪৪ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বা প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

মিউচুয়াল ফান্ডের থেকে ইটিএফ অনেক নিরাপদ উল্লেখ করে ডিএসইর এমডি বলেন, ইটিএফ কখনো ধ্বংস হয় না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রথম ইটিএফ গঠন হবে ডিএসই-৩০ সূচকের কোম্পানিগুলো নিয়ে। এখন ঐ ৩০ কোম্পানির মধ্যে যদি কোনো একটি ডিএসই-৩০ সূচক থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে ইটিএফের অ্যাসেট ম্যানেজার সেই কোম্পানির সিকিউরিটিজ বিক্রি করে দেবে এবং ৩০ সূচকে নতুন যে কোম্পানি আসবে, সেই কোম্পানির সিকিউরিটিজ কিনে নেবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে তিনটি কোম্পানি ইটিএফ গঠনে উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

ইটিএফ শেয়ারবাজারে স্হিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানান ডিএসইর এমডি। তিনি বলেন, শুরুতে ডিএসই-৩০ সূচকের কোম্পানিগুলো নিয়ে ইটিএফ গঠন করা হলেও পরে বিভিন্নভাবে করা হবে। সেটা শরিয়াহভিত্তিক সূচকের কোম্পানিগুলো নিয়ে, ফার্মাসিউটিক্যালস বা অন্য কোন খাতের কোম্পানি নিয়ে ইটিএফ গঠন করা হতে পারে।

তারিক আমিন ভূইয়া বলেন, ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটের (ওটিসি) কোম্পানিগুলো এটিবিতে লেনদেন হবে। এছাড়া অতালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড ও প্রাইভেট প্লেসমেন্ট লেনদেন হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসইর সিওও সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, সারা বিশ্বে ইটিএফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এখানে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইটিএফ পরিচালনা করা হবে। এই ইটিএফ চালুর মধ্য দিয়ে দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইত্তেফাক/কেকে