মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া রোগী এবং তার আত্মীয়ের কাছে অনেকটা আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতোই। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর অথবা ঢাকা নিতে হলে রোগীর আত্মীয়স্বজনকে পড়তে হচ্ছে হাসপাতালের সামনে থাকা বিভিন্ন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের খপ্পরে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে আনা-নেওয়া করতে চড়া ভাড়া দিতে হচ্ছে তাদের।
জানা যায়, ভৌগোলিক কারণে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা বেশি। পার্শ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলার অনেক মানুষ মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসার কারণে এখানে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা বেশি। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারিভাবে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে একটি অ্যাম্বুলেন্স বিকল হয়ে পড়ে আছে। অন্যটি যান্ত্রিকত্রুটিজনিত নানা জটিলতায় বেশির ভাগ সময় পড়ে থাকে। এ সুযোগে রোগী পরিবহনে হাসপাতালের মূল ফটকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলাসদর অথবা ঢাকা নিতে হলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া উপায় থাকে না।
মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক আ. আজিজ জানান, পাজেরো ব্র্যান্ডের একটি অ্যাম্বুলেন্স গত ছয় বছর যাবৎ অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। পরে এখানে নিশান ব্র্যান্ডের যে অ্যাম্বুলেন্স এসেছে সেটির জ্বালানি অকটেন হওয়ায় যাতায়াত খরচ বেশি পড়ে। তাছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে এর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রটি কাজ করে না। তাই রোগীর চাপ বেড়ে গেলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সই ভরসা। তিনি আরো জানান, এই হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক শুধু আমি। একাধিক অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও লাভ কি, চালক নেই।
এদিকে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় কয়েক জন অ্যাম্বুলেন্স কিনে হাসপাতালের আঙিনায় রেখে ভাড়ায় চালাচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স মালিক পৌরকাউন্সিলার তাজুল ইসলাম বলেন, আমার দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। ব্যবসার পাশাপাশি রোগীদের সেবা দেওয়া আমার মূল লক্ষ্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে একটি অ্যাম্বুলেন্স চলছে। তবে, এটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটি নষ্ট। ব্যক্তি মালিকানা অ্যাম্বুলেন্স যেন হাসপাতালের মূল ফটকে না রাখে, সে জন্য মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান বলেন, দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি বিকল বহুদিন ধরে, অন্যটি চলছে। নতুন আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বাইরে রাখার জায়গা না থাকায় চালকরা হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স রাখে। তাদেরকে বহুবার বলেছি, কিন্তু কাজ হয় না।
