দিনভর অচল চবি, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামে অবরোধ স্থগিত  

আপডেট : ০১ জুন ২০২২, ১৮:২৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ ভিএক্সের দুই নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দু্র্জয় ও মোহাম্মদ রাশেদকে আক্রমণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দিনভর অচল ছিল ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অবরোধে ক্যাম্পাস থেকে কোনো শিক্ষক বাস ছেড়ে যায়নি। আসেনি শিক্ষার্থীদের একমাত্র বাহন শাটল ট্রেন। ফলে নির্ধারিত পরীক্ষা ও ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্নভাবে ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীরা পড়েন দুর্ভোগে।  পরবর্তীতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দুপুর আড়াইটায় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। 

এর আগে গত মঙ্গলবার (৩১মে) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবরোধে নামেন। বন্ধ করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ গুরুত্বপূর্ণ সব মোড়।

জানা যায়, ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দু্র্জয় ও মোহাম্মদ রাশেদ মোটরসাইকেলযোগে এক নম্বর গেট থেকে ক্যাম্পাসে দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মদন ফকির মাজার এলাকায় তাদের ওপর হামলা হয়। সে সময় ২ রাউন্ড গুলি করা হয় বলেও জানান ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় যুবলীগ নেতা হানিফের অনুসারী ৭-৮ জন কর্মী দেশীয় অস্ত্রসহ মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে হামলা চালান। ভাঙচুর করা হয় মোটরসাইকেলও। এ ঘটনার পর দুপুর ১ টার দিকে অভিযুক্ত মো. হানিফকে আটক করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ।

হামলায় অভিযুক্ত ৭-৮ জনের মধ্যে হানিফ, হানিফের আপন ছোট ভাই ইকবাল এবং জালাল নামে তিনজন অভিযুক্তকে হামলার সময় চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন ভুক্তভোগী প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়। 

হামলার নেপথ্যের কারণ হিসেবে প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, হানিফ ও তার ভাই ইকবালের নামে অনেক অভিযোগ আছে। তারা মাদকের ব্যবসা করে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছ অবৈধভাবে কেটে নিয়ে যায়। আমরা এই অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছিলাম। আর এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ওপর গতকাল রাতের ওই হামলা করে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘আমি প্রতিদিনের মতোই সকালে ঘুম থেকে উঠি। উঠে তাজ্জব হয়ে যাই ফেসবুক দেখি। দেখি ফেসবুকে আমার ছবির ছড়াছড়ি। আমি নাকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কোন এক ছাত্রকে রাতে মেরেছি। অথচ না আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি। স্পষ্টতই এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’

এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে হানিফ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত আছে।’ 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় একজন আটক হয়েছে। এমন ঘটনার যাতে কোনো পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি।’

ইত্তেফাক/এএএম