নাট্যকার, অভিনেত্রী ও নির্দেশক হৃদি হক। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন ‘১৯৭১-সেইসব দিন’ নিয়ে। সরকারি অনুদানের ছবিটি পরিচালনা করছেন তিনি। প্রয়াত নাট্যজন ডক্টর ইনামুল হকের গল্প ভাবনায় ছবিটি নির্মাণ করছেন তার সুযোগ্য কন্যা হৃদি।
ছবির অগ্রগতি প্রসঙ্গে হৃদি জানান, ‘ছবির শুটিং ও সম্পাদনার কাজ শেষ। এখন আমরা ডাবিং করছি। সামনে সাউন্ড ও কালার গ্রেডিংয়ের কাজ হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছে আছে।’
হৃদি আরও বলেন, ‘আমরা ছবিটি বড় ক্যানভাসে মুক্তি দিতে চাই। সাধারণত দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের ছবি স্বল্প পরিসরে দায়সারাভাবে মুক্তি দেওয়া হয়। আমরা তা চাই না। এ ছবির মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক আনতে চাই। অর্থাৎ, সিনেমা হল আমাদের মূল লক্ষ্য। তারপর পরিস্থিতি বুঝে ওয়েব প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেওয়া হবে।’
‘১৯৭১-সেইসব দিন ছবিতে অভিনয় করছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মামুনুর রশীদ, আতাউর রহমান, গ্রীতশ্রী দত্ত, শিল্পী সরকার অপু, লিটু আনাম, হৃদি হক, ফেরদৌস, তারিন জাহান, সজল, সাজু খাদেম, সানজিদা প্রীতি, আনিসুর রহমান মিলন, নাজিয়া হক অর্ষা, মৌসুমী হামিদ, ফারহানা হামিদ, জুয়েল জহুর, আইরিন পারভীন লোপা, শেলী আহসান, জয়িতা মহলানবিশসহ আরও অনেকে। এ ছবির সবধরনের কাজ শেষ হলে পরবর্তী কাজ নিয়ে ভাববেন বলে জানালেন হৃদি।
নির্দেশনায় অনেকটা সময় চলে যায় হৃদি হকের। তাই এক সময় দাপটের সাথে টেলিভিশন মাতিয়ে রাখা হৃদিকে অভিনয়ে দেখা যায় না। তিনি বলেন, ‘গত ঈদে রেডিওতে একটি নাটক করেছি। অভিনয় আমার ভীষণ ভালো লাগার জায়গা। সময় পেলে, ভালো গল্প পেলে নাটক করা হয়। তবে, যেহেতু পেশা বদলে ফেলেছি— সেহেতু সময় হয়ে ওঠে না।’
অভিনয় না করলেও চলতি সময়ের নাটকের খোঁজ-খবর রাখছেন হৃদি হক। শোনালেন আশার কথা। তার ভাষ্যে, ‘এখন প্রচারের মাধ্যম অনেক সহজ হয়ে গেছে। প্রচুর খারাপ নাটক হচ্ছে, পাশাপাশি যারা প্রকৃত নাটকের মানুষ তারা মানসম্পন্ন নাটক নির্মাণ করছেন। তাদের কাজই টিকে থাকবে। বাকিরা ঝরে পড়বে।’
নাটকের চিত্রনাট্য ও সংলাপ নিয়ে অবশ্য হতাশা ঝরে পড়ল হৃদি হকের কথায়। তিনি বলেন, ‘একটি কথা না বললেই নয়, চিত্রনাট্যের ঘাটতি রয়ে গেছে। আগেও এ সমস্যা দেখেছি, এখনও দেখছি। হয়তো পড়াশোনা করা হচ্ছে না। তবে, এ সময়ের অনেক নির্মাতা আছেন যারা কারিগরিভাবে উন্নতমানের কাজ উপহার দিচ্ছেন। আমি সেসব কাজের কথাই বলছি যেগুলো নির্মাণে জড়িত নাটকের মানুষ। সস্তা কাজগুলোকে হিসেবে ধরছি না।’
টেলিভিশন নাটক প্রসঙ্গে মিশ্র মতামতের পর জানতে চাইলাম মঞ্চের কাজ প্রসঙ্গে। হৃদি কাজ করছেন নাগরিক নাট্যাঙ্গনে। তারা অভিনয় শেখানোর একটি স্কুল পরিচালনা করছেন। হৃদি জানালেন, ‘করোনার জন্য দীর্ঘদিন মঞ্চের কাজ বন্ধ ছিল। আমি নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইনস্টিটিউট অব ড্রামা’র পরিচালনা পরিষদের প্রধান। বর্তমানে ২৬তম ব্যাচের ক্লাস চলছে। এ নিয়ে ব্যস্ততা আছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত নাটকের প্রদর্শনী শুরু করার ইচ্ছে আছে। আমার নির্দেশনার কাজ ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’র আর কয়েকটা প্রদর্শনী হলে শত ছড়াবে। এছাড়া আরও দুটো নতুন নাটকের প্রদর্শনী করা হবে।
