এক যুগ আগে কতিপয় পণ্যের সরবরাহ ও বিতরণে পাটজাত মোড়ক ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিলো আইন। কিন্তু সেই আইনের নেই কোন কার্যকর বাস্তবায়ন। এখন আইন বাস্তবায়নের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনকে (বিজেএমএ)। সংবিধানের ১০২ ধারায় আনীত ওই আবেদনের ওপর শুনানিকালে আইনের বাস্তবায়ন না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে এতদিনেও কেন আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি এ বিষয়ে বাণিজ্য, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ ১৪ বিবাদীকে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. জাফর আহমেদ ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এছাড়া সরকার নির্ধারিত ১৯ টি পণ্যের ক্ষেত্রে এখন থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে পাটজাত মোড়ক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের আদেশের বিষয়টি ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী পক্ষের কৌসুলি ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ।
তিনি বলেন, পলিথিন ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। সেই পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে পণ্যের সরবরাহ ও বিতরণে পাটের মোড়ক ব্যবহারের লক্ষ্যে আইন করেছিলো সরকার। কিন্তু সেই আইনের বাস্তবায়ন নেই। এখন হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন পণ্যের সরবরাহ বিতরণ ও বাজারজাতকরনের ক্ষেত্রে এখন থেকেই পাটের মোড়ক অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।
২০১০ সালে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে,“এই আইন কার্যকর হইবার পর কোন ব্যক্তি, এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পণ্য,পাটজাত মোড়ক দ্বারা মোড়কজাতকরন ব্যতীত, বিক্রয়, বিতরণ বা সরবরাহ করিতে পারিবেন না বা করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, সরকার প্রয়োজনবোধে বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন পণ্য বা পণ্য সামগ্রী পাটজাত মোড়ক দ্বারা মোড়কজাত করা সম্ভব না হইলে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা উক্ত পণ্য বা পণ্য সামগ্রী পাটজাত মোড়ক দ্বারা মোড়কজাতকরণের ক্ষেত্রে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
আইনের পর তিন বছর পর বিধি প্রণয়ন করে সরকার। সেখানে ১৯টি পণ্যের মোড়কজাত করার ক্ষেত্রে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-ধান, চাউল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি, মসলা, হলুদ, পেয়াজ, আদা, রসুন, ধনে, ডালজাতীয় শস্য, আলু, ময়দা, কুড়া, মুরগি ও মাছের খাবার। কিন্তু এসব পণ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান পাটের মোড়ক ব্যবহার না করে কৃত্রিম মোড়ক ব্যবহার করছে-উল্লেখ করে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন। রিটের পক্ষে আইনজীবী সুমাইয়া আজিজ ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা বাস্তবায়নে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নির্দেশ দেন।
