বোমা বর্ষণের মধ্যেই যে হাসপাতালে চলে চিকিৎসা

আপডেট : ০২ জুন ২০২২, ২০:৪৮

ইউক্রেনের বাখমুত শহরের এ হাসপাতালে দূর-দূরান্ত থেকে এত রোগী আসবে কোনোদিন ভাবেনি কেউ। এখন সেখানে নিত্য রোগীর আসা-যাওয়া। পুরোনো অ্যম্বুলেন্স, স্ট্রেচারের বদলে কাঠের দরজা নিয়েই চলছে যুদ্ধাহত সৈনিকদের চিকিৎসা।

যুদ্ধাহত সৈনিক ইগর বলছিলেন, ‘‘আমরা নরক থেকে এখানে এসেছি।’’ বাখমুতের এই হাসপাতালে তিনি এসেছেন বাঁচার আশায়। হাতে গোনা কয়েকজন ডাক্তার এবং প্যারামেডিক্স প্রাণপণ লড়ছেন তাদের বাঁচাতে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি বলতে গেলে কিছুই নেই। নেই পর্যাপ্ত স্ট্রেচার। কাঠের দরজায় তুলে আনতে হচ্ছে আহত সৈন্যদের।

এমনকি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আহত সৈন্যদের নিয়ে আসার জন্য ভালো কোনো অ্যাম্বুলেন্সও নেই। জার্মানি এবং পোল্যান্ডের তৈরি কয়েকটি সেকেন্ড-হ্যান্ড অ্যাম্বুলেন্সই ভরসা বাখমুতের এই হাসপাতালের।

ভ্রাম্যমাণ এই হাসপাতালটির মূল কাজ লুহানস্ক অঞ্চলের পোপসানা শহরের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আহত সৈনিকদের বাখমুতের হাসপাতালে নিয়ে আসা। আহতদের সব চিকিৎসা হয় না এখানে। প্রাথমিক চিকিৎসায় রক্তপাত বন্ধ করে, কিছুটা সুস্থ করে সব রোগীকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের বড় কোনো হাসপাতালে।

বুলাখতিনার ‘বস’ সভেতলানা ড্রুজেনকো জানালেন, এত আহত সৈনিকের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন, ‘‘যুদ্ধ শুরুর পর আমরা যখন কাজ শুরু করি, তখনও ভাবিনি এত লোক আহত হয়ে আসবে। এখন যে হারে আসছে, সংখ্যাটা সত্যিই বিশাল। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে, সব শহরেই মারা যাচ্ছে মানুষ।

আহত সৈন্য ইগরের যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা খুব ভয়াবহ। বলছিলেন, ‘‘ওরা (রুশ বাহিনী) ভূমি থেকে এবং বিমান থেকে হামলা চালিয়েছে, সব জায়গায় বোমা ফেলছে, দিনে-রাতে হামলা চালাচ্ছে। পোপাসনা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে।’’

যুদ্ধাহত সৈনিক আলেসান্দ্রোর পরিবার যুদ্ধ শুরুর পরই ইউক্রেন ছেড়ে চলে গেছে পোল্যান্ডে। সেখানে তারা নিরাপদে আছেন। হাসপাতালে নিজের শরীরের ব্যথা ভুলে সন্তানের সঙ্গে কথা বলছেন আলেসান্দ্রো।

ইত্তেফাক/এএইচপি