কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ হারিয়েছে ২ শিশু। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত ১ বছরের শিশু মারিয়া ও নিশু আক্তার নামের আরেক নারীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউপির কান্দি গ্রামের ব্যাপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইনসপেক্টর সুজয় কুমার মজুমদার।
নিহত ২ শিশু ঐ গ্রামের একই বাড়ির রিপন মিয়ার মেয়ে রিহাম (১১) ও মাসুদ আলমের ছেলে নাজমুল (৮)। গুরুতর আহত ২জনের মধ্যে শিশু মারিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন। বর্তমানে সে রাজধানীর শেখ হসিনা বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির অসুস্থ এক নারীকে দেখতে আসেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সে সময় রিপন মিয়ার মেয়ে রিহাম ও মাসুদ আলমের ছেলে নাজমুল সকলের অজান্তে বাড়ীর ছাদে উঠে। খেলার ছলে শিশু নাজমুল ছাদের এক পাশে থাকা বিদ্যুতের তার স্পর্শ করতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এসময় রিহাম তার কোলে থাকা এক বছরের শিশু মারিয়া কে নিয়ে নাজমুল কে বাঁচাতে গিয়ে তারাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
আহত শিশুদের চিৎকার শুনে নাজমুলের মা নিশু আক্তার ছুটে যান ছাদে, পরিস্থিতি না বুঝে তিনি তাদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহতাবস্থায় শিশু রিহাম কে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গুরুতর আহত ওই নারী ও শিশুকে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মারিয়া নামক শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইনসপেক্টর (এসআই) সুজয় কুমার মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন ময়না তদন্তের জন্য তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর মনোহরগঞ্জ জোনাল অফিস (নাথেরপেটুয়া) এর (এজিএম) ইলিয়াছ পাটোয়ারী। তিনি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
