চোটের কারণে মূল দলের চার খেলোয়াড়কে পাওয়া যায়নি, সঙ্গে স্ট্রাইকার সংকটও চোখ রাঙাচ্ছিল বেশ। তারপরও দ্বিতীয় স্তরের দল নিয়েই পূর্ণশক্তির ইন্দোনেশিয়াকে তাদেরই মাটিতে রুখে দিলো বাংলাদেশ। ফিফা প্রীতি ম্যাচটিতে জয় না পেলেও গোলশূন্য ড্র করে হাভিয়ের কাবরেরা শিষ্যদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গেই বলা চলে।
গত পরশু ফুটবল দল ইন্দোনেশিয়া থেকে মালয়েশিয়া পাড়ি দিয়েছে। লক্ষ্য এখন এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব। মালয়েশিয়ায় পা রেখেই প্রবাসী সমর্থকদের কাছে অভ্যর্থনা পান জামাল-জিকোরা। গতকাল কোনো অনুশীলন ছিল না। সময়টা বিশ্রাম আর জিম-সুইমিং দিয়েই কাটিয়ে দেয় দল। আজ থেকে শুরু হবে অনুশীলন। সেই অনুশীলনে পরিকল্পনাই হবে কীভাবে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে পয়েন্ট পাওয়া যায়।
এমনটাই জানিয়েছেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। শক্তিশালী ইন্দোনেশিয়া রুখে দেওয়ার মূল নায়ক ছিলেন তিনি। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে পয়েন্ট পেতে হলে তাকে আগামী তিন ম্যাচেও দেওয়াল হয়ে দাঁড়াতে হবে। তার আগে ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের কাঁটা ছাড়া করবেন কোচ কাবরেরা। জিকো বলেন, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ভালো দিক ও খারাপ দিক নিয়ে কোচ কাজ করবে। সামনে আমরা কিছু সময় পাব। আশা করছি যে তিনটা ম্যাচ আছে, তিনটাতে আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। যাতে করে এখান থেকে পয়েন্ট অর্জন করতে পারি। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করব। দেশের জন্য আমরা ভালো কিছু আশা করছি।
ভিসা জটিলতার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় যেতে পারেননি দলের অন্যতম সদস্য মাহবুবুল হাসান সুফিল। তাই কথা ছিল দলের সঙ্গে সরাসরি মালয়েশিয়াতেই দেখা হবে তার। গতকাল যোগ দিয়ে দলকে পূর্ণতা দিয়েছেন তিনি। জিকো বলেন, ‘এখন আমাদের দলে সুফিল যুক্ত হয়েছে। কাল (আজ) আমরা অনুশীলন শুরু করব। সামনের ম্যাচগুলো যাতে ভালোভাবে ফোকাস করতে পারি, সেজন্য একসঙ্গে দল হয়ে খেলার চেষ্টা করব।’
এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৮ জুন বাহরাইনের বিপক্ষে। ১১ জুন মুখোমুখি হবে তুর্কমেনিস্তানের ও ১৪ জুন জামাল ভূঁইয়ার দলকে আতিথ্য দেবে স্বাগতিক মালয়েশিয়া। চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি টিকিট কাটবে এশিয়ান কাপের। র্যাংকিংয়ের বিচারে তিন দলই বাংলাদেশের চেয়ে প্রচুর শক্তিশালী। কোচ কাবরেরা দেশ ছাড়ার আগেই জানিয়েছিলেন, দলের থেকে জাদুকরী কিছু আশা করছেন না তিনি। তবে ড্র করতে পারলেও সেটা বাংলাদেশের জন্য হবে জয়ের সমান। যেমনটা হয়েছিল ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের বেলায়।
