দর্শনা ইমিগ্রেশন: ২ বছরেও চালু হয়নি ট্যুরিস্ট ভিসা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২২, ২১:২৬

২০২০ সালে মহামারি করোনার কারণে ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দর্শনা আন্তর্জাতিক স্থলপথ দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল। এমন পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েকটি জেলার মানুষ।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, দর্শনা-গেদে স্থলপথে ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসেনি। 

দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশ সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ব মহামারি করোনার কারণে গত ২০২০ সালের ২৬ মার্চ দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল বন্দরের মাধ্যমে ভারতীয় মালামাল আমদানি ও স্থলপথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ট্যুরিস্টসহ অন্যান্য ভিসার পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়। কিছুদিন পর মাস্ক বাধ্যতামূলক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথে ভারত থেকে মালামাল আমদানি শুরু হয়। ২০২১ সালের ১৭ মে থেকে ভারতে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের দর্শনা আন্তর্জাতিক স্থলপথের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনার একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুধুমাত্র মেডিক্যাল ও বিজনেস ভিসায় দর্শনা-গেদে হয়ে পাসপোর্ট যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবে বলে জানায় ইমিগ্রেশন পুলিশ।

সবশেষ গত ২৯ মে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনের মাধ্যমে চলাচল শুরু হলেও অদ্যবদি দর্শনা-গেদে স্থলপথে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হয়নি। 

কুষ্টিয়া আড়ুয়া পাড়ার এক বয়স্ক মহিলা পাসপোর্ট যাত্রী দর্শনা চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের জানান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, রাজবাড়ি, চুয়াডাঙ্গাসহ এ অঞ্চলের ৭/৮টি জেলার মানুষ ট্যুরিস্ট ভিসায় দর্শনা-গেদে স্থলপথে যাতায়াত করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বেনাপোল-হরিদাসপুর দিয়ে ভারত যেতে হচ্ছে। এতে গরমে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। যাতায়াত খরচ হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। 

তিনি জানান, কুষ্টিয়া মাগুরা মেহেরপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে দর্শনা চেকপোস্টে আসতে খরচ হয় মাত্র ৫০ থেকে ৮০ টাকা। আর দর্শনা থেকে ভারতের গেদে রেল স্টেশনে পায়ে হেটেই যাওয়া যায়। সে হিসেবে কুষ্টিয়া থেকে যশোরের ভাড়া একশ টাকা, যশোর থেকে বেনাপোলের ভাড়া ৫০ টাকা, বেনাপোল থেকে ভারতের বনগাঁও রেলস্টেশনে পৌঁছাতে জন প্রতি খরচ দেড়শো টাকা। 

দর্শনা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা মো আবু নাঈম জানান, মেডিক্যাল ও বিজনেস ভিসায় প্রতিদিন এ পথে ২/৩ শ পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করছে। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী অনেক কম। 

দর্শনা সি এন্ড এফ এসোসিয়েসনের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান হাবু জানান, দর্শনা-গেদে স্থলপথে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করা হলে সরকার যেমন হাজার হাজার টাকা রাজস্ব পাবে, সঙ্গে সঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপর যাত্রীর চাপ কমে আসবে। তাছাড়া দর্শনা থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ১শ ৭ কিলো মিটার। 

দর্শনা কাস্টমস সুপার শ্রী শুভাশীষ কুন্ডু জানান, কোভিডের আগে এ পথে প্রতিদিন প্রায় দেড়- ২ হাজারের উপরে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করেছে, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলে আগের মতো পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করবে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ চেকপোস্টে একজন যাত্রীর জন্যেও কাস্টমস ইমিগ্রেশন বিজিবির ফুলটাইম কাজ করা লাগে। ফলে প্রতিদিন যা খরচ তাতো হয়েই যাচ্ছে। 

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম জানান, দর্শনা-গেদে আন্তর্জাতিক স্থলপথে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু সংক্রান্ত বিষয়ে আমার দপ্তরে এ পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসেনি। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু জানান জলদি দর্শনা-গেদে স্থলপথে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হতে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম