চীনের যে 'ফাঁদে' পাকিস্তান  

আপডেট : ০৪ জুন ২০২২, ২১:২৬

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এর জন্য চীনের কিছু প্রভাব দেশটির এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে দেশটির দুর্বল প্রশাসন, বিভিন্ন সম্পদের অব্যবস্থাপনা এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পাকিস্তানকে একটি বিশাল অর্থনৈতিক সংকটের দিকে নিয়ে গেছে।  এর মধ্যে দেশটিতে জ্বালানি শক্তিতেও সংকট প্রবল হতে শুরু করেছে।   

এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই ডজনেরও বেশি চীনা সংস্থা বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) গত  ৯ মে থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্যক্রম বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, কারণ হিসেবে বলা হয়েছে পাকিস্তানকে আগে অর্থ প্রদান করতে হবে। 

রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানকে ৩০০ বিলিয়নের বেশি পাকিস্তানি মুদ্রা বেশ কয়েকটি চীনা সংস্থাকে পরিশোধ করতে হবে। এসব সংস্থা পাকিস্তানেই কাজ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এক বৈঠকে উত্থাপিত হয়। এটি দেশটির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রী আহসান ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

খবরে বলা হয়েছে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) এর অধীনে পাকিস্তানে ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি রয়েছে।  এসব কোম্পানি দেশটিতে কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করছে যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, যোগাযোগ, রেলওয়ে এবং হাইওয়ে। 

তবে চীনা পক্ষ থেকে অগণিত অভিযোগ রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে চীনাদের জন্য জটিল ভিসা পদ্ধতি, ভারী ট্যাক্সসহ অনেক কিছু। 

আইপিপি'র এর অন্তত ২৫ জন প্রতিনিধি একের পর এক অভিযোগ করেছেন এবং তাদের জমাকৃত পাওনা বৃদ্ধির বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। সেই সঙ্গে সতর্ক করেছেন যে অগ্রিম অর্থপ্রদান ছাড়া তারা কয়েক দিনের মধ্যে কাজ বন্ধ করে দেবেন। 

তারা বলেছে, গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদা মেটাতে বিদ্যুতের উৎপাদন সর্বাধিক করার জন্য কর্তৃপক্ষ তাদের চাপ দিচ্ছে কিন্তু গুরুতর আর্থিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এটি আমাদের পক্ষে অসম্ভব। 

ইত্তেফাক/এসআর