রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মন্ত্রীদের নির্দেশেই বিরোধীদের ওপর হামলা হচ্ছে: রিজভী

আপডেট : ০৪ জুন ২০২২, ২৩:৫৭

দেশে বর্তমানে বিরোধীদলের সভা-সমাবেশের কোন অধিকার নেই এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (৪ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের নির্দেশেই বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা করা হচ্ছে। ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগকে বাহবা দিয়েছেন। তাদেরকে ভবিষ্যতে আরও হামলা করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। হামলা চালিয়ে তাঁরা দুস্থদের খাবার খিচুড়ির হাঁড়িসহ নিয়ে গেছেন।

রিজভী বলেন,এক দেশে দুই আইন চলছে।বিএনপি সমাবেশ করতে গেলে প্রেসক্লাবের সামনে চারদিক ঘেরা স্থানে অনুমতি দেওয়া হয়।অথচ রাজধানীর সাতটি বড় পয়েন্টে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করেছে। অথচ বিএনপির কোনো কর্মসূচির কথা শুনলেই তারা আক্রমণ চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের নির্দেশেই বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগকে ‘বাপের বেটা’ বলে বাহবা দিয়েছেন। তাদের আরও হামলা করার জন্য উৎসাহিত করেছেন, এটা গণমাধ্যমেও এসেছে।

রুহুল কবির রিজভী জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হামলার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ খুলনা, নারায়ণগঞ্জে হামলা চালিয়ে হামলা চালিয়ে দুস্থদের খাবার খিচুড়ির হাঁড়িসহ নিয়ে চলে গেছে। এভাবে তারা এখনো নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাঁর বাসভবনে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, গাড়ি ভাঙচুর করে এবং চারটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয়। এ ছাড়া আশপাশের বিএনপি–সমর্থিত ব্যবসায়ীদের অন্তত ২৫টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। হামলায় জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুব আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক একরাম হোসেন, সহসাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক সোহেল দেওয়ান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি অংগ্য মারমাসহ প্রায় ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। একই সময় বাংলাভিশনের স্থানীয় প্রতিবেদক এইচ এম প্রফুল্লের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।

বেগমগঞ্জে খাদ্য বিতরণের সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা চালিয়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দুস্থ মানুষের খাদ্য ছিনিয়ে নেয়। হামলায় বিএনপির ৫০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হন। এ ঘটনায় উল্টো স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা বেগমগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাসসহ ১৭৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল খালেক, মো. মুনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/ ইআ