ঝাপোরিজঝিয়ায় এখনো তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সেই অঞ্চল পরিদর্শন করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওই সমস্ত অঞ্চল ঘুরে রবিবার রাতের দৈনিক ভিডিওবার্তায় তিনি প্রচুর পরিমাণে মানবিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
লিসিচানস্ক এবং সোলেদার বলে দুইটি জায়গায় এদিন বেশ কিছু সময় কাটান জেলেনস্কি। তার পরনে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সেনা প্রধান ওলেখজান্ডার স্তারুখ। জাতীয় পুলিশ বাহিনীর স্থানীয় প্রধানও ছিলেন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের প্রশাসন, সেনা এবং স্থানীয় মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছেন। তিনি তাদের সঙ্গে হাত মেলাতে পেরে গর্বিত বোধ করছেন।
স্তারুখ জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকাই এখন রাশিয়ার দখলে। যুদ্ধের ফলে স্থানীয় গ্রামগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭৭টি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। ওই অঞ্চল থেকে বহু মানুষ পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গৃহহীন সেই সমস্ত মানুষের জন্য কিছু আশ্রয়শিবির তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ মানবিক সাহায্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
এদিকে, ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, দ্রুত তারা ইউক্রেনকে এম ২৭০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম পৌঁছে দেবে। অত্যাধুনিক এই রকেট লঞ্চারের সাহায্যে ৮০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে নির্ভুল আঘাত হানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরেই যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাসচিব বেন ওয়ালেস। রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে এই রকেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেনকে আধুনিক রকেট লঞ্চার পাঠিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের চুক্তি হয়েছে, রাশিয়ার ভিতর কোনো অঞ্চলে রকেট আক্রমণ চালাবে না ইউক্রেন।
