বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঢাকা কলেজে ঝুঁকিপূর্ণ ছাত্রাবাস, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা 

আপডেট : ০৭ জুন ২০২২, ১১:৩৮

খুলে পড়ছে কক্ষ ও ছাদের পলেস্তারা। শিক্ষার্থীদের বিছানায় পড়ে আছে ইট-বালুর আস্তর। পলেস্তারা খুলে বের হয়ে আছে বিম ও ছাদের রড। ছাদের পানি এসে জমছে ফ্লোরে। অনেক রুমের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। দীর্ঘদিন ধরে রঙ না করায় দেয়ালে পড়েছে শেওলা। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা দেয়ালে লাগিয়েছেন কালার পেপার ও পত্রিকার কাগজ। অনেক কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙা। লাইট নষ্ট। লাইট না থাকায় সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে ছেয়ে যায় ছাত্রাবাস। এমন চিত্র ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাসে। 

দুই তলার এই ছাত্রাবাসে বসবাস করেন প্রায় শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী। রুমের সংখ্যা ১০টি। বাহির থেকে বেশ চকচকে মনে হলেও ভেতরের অবস্থা বেশ জরাজীর্ণ। বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ দিন থেকেই অধিকাংশ কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙা। লাইট নষ্ট। লাইট না থাকায় সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে ছেয়ে যায় ছাত্রাবাস। করোনার পর দুটো কক্ষ ও ওয়াশরুমের কাজ শেষ হলেও বাকিগুলোর কাজ থমকে যায়। যা এখনও বিরাজমান। 

শিক্ষার্থীরা জানান, রুমের জানালা ভাঙা থাকায় থাকতে কষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের। সন্ধ্যা হলেই কক্ষে মশা ঢুকতে থাকে। শীতকালে রুমের ভেতরেও শীতে থাকা যায় না। সিঁড়ির নিচে কোনোমতে একটা পাঠকক্ষ বানানো হয়েছে। সেখানে ফ্যান নেই। লাইট নেই। দরজাও নেই। বাধ্য হয়ে অনেকেই ডাইনিংয়ে পড়াশোনা করে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী ভাঙা জানালায় পুরনো কাথা ও ব্যানার দিয়ে পর্দা লাগনোর চেষ্টা করছেন। জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, দরজা-জানালা দীর্ঘ দিন ধরে নষ্ট। আমাদের মোবাইল-ফোন-ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় মূল্যবান জিনিস নিয়ে সবসময়ই উৎকণ্ঠায় থাকি। মাঝেমধ্যে চুরির ঘটনাও ঘটে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো আগ্রহই নেই এসব সমস্যা সমাধানে।

সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ডাইনিং, ওয়াশরুম ও দুইটা রুমের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলোও দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ইলেক্ট্রিসিটির কাজের টেন্ডার হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই হলের সব রুমের ইলেক্ট্রিসিটির কাজ হবে বলে আশা করছি। আমাদের রিডিং রুম নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মহোদয় গতকাল চিঠি দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন। আশা করছি তখন এসব সমস্যা মিটে যাবে।’

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক ঢাকা কলেজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পরের দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে কলেজের জরাজীর্ণ অবস্থা রোধে একাডেমিক ভবন, হোস্টেল ও শিক্ষকদের আবাসিক ভবন নির্মাণসহ কলেজের সমগ্র জমি ব্যবহারে মাস্টারপ্ল্যানের জন্য অনুরোধ জানান।

ইত্তেফাক/মাহি