বালু ভরাটের পানিতে ডুবেছে ঘরবাড়ি-সড়ক-ফসলি জমি

আপডেট : ০৮ জুন ২০২২, ১০:৫১

রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার নরাব, নলীরটেক, নলপাথর, পশ্চিম কালাদি, ত্রিশকাহনিয়া, হান্ডি মার্কেট, পিঠাগুঁড়ি, টেকপাড়া, ডুলুরদিয়া, কালীসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ৫ হাজার পরিবার জলাবদ্ধতায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় ফসলি জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। অনুমোদনহীন অবৈধ আবাসন প্রকল্পগুলো অবাধে পানি নিষ্কাশনের খালগুলো ভরাট করে ফেলছে। সংশ্লিষ্ট কতৃ‌র্পক্ষকে জানিয়েও এলাকাবাসী কোনো সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আবাসন প্রকল্পে বালু ভরাট চলছে। বালুর সঙ্গে আসা পানিতে ডুবে যাচ্ছে ফসলি জমি। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। বসতবাড়ির উঠানে পানি। ঘরের মেঝেতেও পানি। জলাবদ্ধতায় শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কে হাঁটুপানি জমে আছে। পানিতে পুরো এলাকা থইথই করছে। কোনো কোনো এলাকায় শিল্পকারখানার নির্গত বর্জে্য পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। কুচকুচে কালো রঙের এই পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে এলাকার মানুষ চর্মরোগে ভুগছে। আবাসন প্রকল্পের অপরিকল্পিতভাবে ফেলা বালুতে নিষ্কাশনের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্হার সৃষ্টি হয়েছে। জলাশয় ও জলাবদ্ধ জমির দাম কম। তাই কম দামে জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে আবাসন প্রকল্পগুলো এসব এলাকায় কৃত্রিমভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে রেখেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

কাঞ্চন পৌরসভার নরাব এলাকার মুদিদোকানদার জামান মিয়া বলেন, পানি নিষ্কাশনের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখানকার জলাবদ্ধতা স্হায়ী রূপ নিয়েছে। আবাসন প্রকল্পের দায়িত্বহীনতায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। নলীরটেক এলাকার কৃষক রাজ্জাক মিয়া বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিজমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। আর চাষাবাদ করতে না পারায় অভাব-অনটনের মধ্যে এই এলাকার মানুষের জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

পশ্চিম কালাদি এলাকার কৃষক আব্দুল মোতালিব বলেন, এলাকার জমির দাম যখন হু-হু করে বাড়ছিল, তখন অবৈধ আবাসন প্রকল্পগুলো কৌশলে পানি নিষ্কাশন খালে বালু ভরাট করে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। তাতে একদিকে ফসলহানি হয়ে এলাকাবাসী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অতিকষ্টে দিন যাপন করছে, অন্যদিকে জমির দাম না বাড়ায় সবাই আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃ‌র্পক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি। 

নলপাথর গ্রামের চাকরিজীবী সাথী আক্তার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কর্মস্হলে আসা-যাওয়া করা যাচ্ছে না। হাঁটুপানি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে। এখানকার মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র আলহাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার সাত সদস্যবিশিষ্ট টিম কাজ করছে। জলাবদ্ধতায় জড়িত আবাসন প্রকল্পগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের নোটিশ করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে তাদের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা নিজ নিজ দায়িত্বে দূর করতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ নুসরাত জাহান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিগ্গিরই এর সফলতা আসবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি