আমি চাই বাংলাদেশের আসন্ন বাজেটে সেইসব দিকে নজর দেওয়া হোক, যেসকল বাজেটে দৃশ্যমান উন্নয়নের চাইতে জনসাধারণের জীবন মানের নিরাপত্তার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা। এই সেক্টরে উন্নতি নেই দেখে দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা জাগানো, সুচিকিৎসা যেন প্রতিটা নাগরিক পায় সেই লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পাসপোর্ট এই তিন জিনিস যত দ্রুত সম্ভব ভোগান্তি ছাড়া মানুষ যেন সহজে নিতে পারে অল্প সময়ের মধ্যে সেজন্য বাজেট হোক এবং তা যেন কার্যকর হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সড়ক ও পরিবহন খাতে বিশেষ নজর দেওয়া।
—তারেক আহমেদ তুহিন, পিসা, ইতালি
একদিকে দেশকে লুটছে একদল, অন্যদিকে প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে সেই ঘাটতি পূরণ করতে। অথচ তাদের ন্যূনতম সম্মানটুকু দেওয়া হয় না। বিমানবন্দরে কেমন আচরণ করা হয়, তা সবার জানা। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার খরচ বেশি, কিন্তু পারিশ্রমিক কম। বিদেশ থেকে দেশে আসতে টিকিটের জন্য যত টাকা দিতে হয়, তা অধিকাংশ প্রবাসীর কয়েক মাসের বেতনের সমান। চাইলেও অনেকে তাই সহজে বাড়ি আসতে পারে না। ভারত-পাকিস্তানের নাগরিকদের সুবিধা তো দুরের কথা, নেপালের লোকেরাও আমাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। আসন্ন বাজেটে সরকারের উচিত বিদেশযাত্রা সহজ করার দিকে নজর দেওয়া এবং সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো। আরও একটি ব্যাপার হলো, প্রবাসীরা যাতে দেশে আসলে বিনা সুদে ব্যাংক ঋণ পায়, দেশে কিছু করতে পারে; সরকারি ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা। আমি চাই, এবারের বাজেট প্রবাসীদের মুখে হাসি এবং অন্তরে স্বস্তি আনুক।
—নাহিদুল ইসলাম হিমেল, রিয়াদ, সৌদি আরব
করোনার ফলে এমনিতেই গোটা বিশ্বে এক ধরণের মন্দাভাব তৈরি হয়েছে। মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে, অর্থনীতি এলোমেলো হয়ে গেছে। এর মাঝে বছর ঘুরে আবারও বাজেট প্রণয়নের সময় এসে গেছে। আমি মনে করি, নতুন বাজেট এমনভাবে করা হোক, যেখানে সরকার দেশের অসমাপ্ত কাজগুলো আগে সমাপ্ত করায় জোর দেবে। নতুন করে বড়ো কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ না করাই শ্রেয় বলে মনে করি। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে না পারলে সামনের দিনগুলো আরও কঠিন হবে। তাই, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনে নজর দেওয়া হোক বাজেটে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটি, সরাসরি প্রবাসীদের সাথে যুক্ত, সেটি মুদ্রাস্ফীতি। মুদ্রাস্ফীতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, আশাকরি সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
—মিশুক চন্দ্র দাস, লিসবন, পর্তুগাল
২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট ছিল ৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি। এত বাজেটের পরেও সঠিক ভাবে সঠিক জায়গায় খরচ হচ্ছে না দুর্নীতির জন্য। তাই সবার আগে বলবো, বাজেট যদি গতবারের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়িয়েও দেওয়া হয়, তারপরেও বাজেট অনুযায়ী দেশের উন্নয়ন হবে না দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে। বাংলাদেশ রেমিট্যান্সের উপর নির্ভরশীল কিন্তু রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য সরকারের কোনো চিন্তা নেই। যতটুকু আছে তা কেবল সভা, সেমিনারের বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ। প্রবাসীরা দেশে গিয়ে এয়ারপোর্টে নামলে হয়রানির শিকার হতেই হয়। প্রবাসী হিসেবে চাই আমাদের হয়রানি করা বন্ধ করতে হবে। দরকার হলে কাউন্টার চালু করতে হবে, লোকবল বাড়াতে হবে, যাতে হেনস্তা না হতে হয়। এর জন্য বাজেট বাড়ানো ও তা বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া যারা মানি লন্ডারিংয়ের সাথে জড়িতে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মানি লন্ডারিং বা হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বহুগুণে বাড়বে। বেড়ে যাবে বহুগুণ বেশি।
—রাফসান আল আমিন, রিয়াদ, সৌদি আরব
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেশি। একটু ভালোভাবে বাঁচার জন্য মানুষ প্রবাসে পাড়ি জমায়। কিন্তু প্রবাসে আসার পর ভালো থাকার যে ইচ্ছেটা তা মরে যায় অনেকেরই। দেশ থেকে বিদেশে আসা পর্যন্ত যে প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে, তা যারা অতিক্রম করে শুধু তারাই জানে কতটা ভোগান্তি, অনিশ্চয়তা। একটু তাড়াতাড়ি কাজ সম্পন্ন করতে দালালের দ্বারস্থ হতে হয়, বাড়তি টাকা গুণতে হয়। অথচ, এসব আমাদের অধিকার। আসন্ন বাজেটে প্রবাসী কল্যাণে যতটুকু বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা জেনো সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়। এয়ারপোর্টে লোকবল বাড়ানো, পাসপোর্ট অফিসে শৃঙ্খলা ও নিয়ম মানার পাশাপাশি প্রবাসীরা যাতে বিদেশে সবরকম সুবিধা পায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। একজন শ্রমিকের মূল্য দেশের কাছে নাইবা থাকতে পারে, তার পরিবারের কাছে আছে। সরকারের উচিত এগুলো মূল্যায়ন করা। করোনার প্রভাবে প্রবাসীদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে গেছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে বেকার। কেউ দেশে ফিরতে পারছে না। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া, প্রয়োজনে অনুদানের বরাদ্দ বাড়ানো উচিত বলে মনে করি।
—ওমর ফারুক, মাসকট, ওমান
বৈশ্বিক অতিমারি করোনার ফলে বিশ্বের বড়ো বড়ো দেশগুলোও হিমশিম খেয়ে গেছে। সেখানে বাংলাদেশের মতো অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশের হিমশিম খাওয়াটা স্বাভাবিক। জনসংখ্যা বেশি হওয়াতে আমাদের মানবসম্পদ বেশি। কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ মানবসম্পদকে কাজে লাগানো যায়, সেই লক্ষ্যে সরকারের উচিত প্রকল্প হাতে নেওয়া ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। বিশেষত, তরুণদের যদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এবং কম খরচে প্রবাসে পাঠানো হয় তারা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। তাই এবারের বাজেটে আমার চাওয়া, উপরের বিষয়গুলোতে বিনিয়োগ ও বাস্তবিক প্রয়োগ ঘটানো হোক।
—ইকরাম রিসাত, আটলান্টিক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
