সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় সেফ লাইন পরিবহনের ধাক্কায় আহত আরও এক নারী বৈজ্ঞানিক মারা গেছেন। বুধবার (৮ জুন) রাত ১২ টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ কর্মকর্তাসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ওই নারী বৈজ্ঞানিকের নাম ফারহানা ইসলাম নিপা (৩৫)। তিনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার দ্বিমুখার উত্তর শিবপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। ফারহানার স্বামী আরাফাত বিন ইউসুফের সঙ্গে রাজধানীর কল্যাণপুরে বসবাস করে সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (নিউক্লিয়ার সাইন্স) হিসেবে কাজ করতেন। এছাড়া সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজিক্যাল সাইন্স ডিপার্টমেন্টের (৩৫ ব্যাচ) সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তার আড়াই বছরের একটি সন্তান আছে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ টি এম ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর গুরুতর অবস্থায় নিপাকে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন তিনি।
এদিকে যে বাসের ধাক্কায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেইফ লাইন পরিবহনের সেই বাসটির সড়কে চলাচলের রুট পারমিট, ফিটনেস ও ট্যাক্সের মেয়াদ ছিল না বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ’র সাভার কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. সাজ্জাদুর রহমান। বিআরটিএর কাছে থাকা তথ্য অনুসারে বাসটির (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫৮৭৮) সড়কে চলাচলের অনুমতি (রোড পারমিট) নেই। এছাড়া বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই এবং ট্যাক্সের মেয়াদ ২০১৫ সালের ২৪ মে শেষ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সকাল নয়টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের দুজন বিজ্ঞানী, একজন প্রকৌশলী ও স্টাফ বাসের চালক নিহত হয়েছিল। এছাড়া দুর্ঘটনায় দায়ী বাসটির চালক মো. মারুফ হোসেনও ওইদিন মারা যান।
