কাশ্মিরি গায়িকা সাজিয়ার সাফল্যের গল্প

আপডেট : ০৯ জুন ২০২২, ২২:২২

ভারতের কাশ্মিরি নারী শিল্পীরা তাদের নতুন গায়কী দিয়ে এমন এক আবেদন সৃষ্টি করেছে যা কেবল ওই উপত্যকাতে নয়, গোটা বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে। তাদেরই একজন হলেন সাজিয়া বাসির। তার জন্ম উত্তর কাশ্মিরের অনন্তনাগের আচাবাল তাজিওয়ারা গ্রামে। ছেলেবেলা থেকেই তিনি গান গাইতে শুরু করেন এবং কাশ্মিরে অত্যন্ত সমাদৃত হন। 

পরবর্তীতে, ২০০৭ সালে তিনি নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন একটি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যার নাম ছিল মিলে সুর অফ কাশ্মির। ২০০৮  সাল থেকেই সাজিয়া কাশ্মিরি গান গাইতে শুরু করেন এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রাণ স্পর্শ করেন।  ২০০৯ সালে তিনি রেডিও কাশ্মিরের হয়ে গান গাইতে শুরু করেন যা বর্তমানে অল ইন্ডিয়া রেডিও শ্রীনগর নামে পরিচিত। ইতোমধ্যে তিনি অনেকগুলো প্লেব্যাক গান রেকর্ড করেছেন।  

সাজিয়া সফলতার উচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে। তার পরিশ্রমের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সাজিয়া বলেন, প্রতিদিনই বাসে করে তাকে অনন্তনাগ শহর থেকে শ্রীনগরে যেতে হতো এবং এটা তার জন্য খুবই বিপজ্জনক ছিল।   

কাশ্মীরের মতো শহরে থেকে এভাবে গায়ক হয়ে ওঠা সত্যিই একটি কঠিন কাজ ছিল। অনেক অনেক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সাজিয়া বলেন, গায়ক এবং শিল্পী, বিশেষ করে যারা নারী তাদেরকে সমাজের কিছু কিছু অংশ থেকে এখনো নেতিবাচকতার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু তাদেরকে যুদ্ধ করতে হবে জীবনে জয় লাভ করার জন্য। 

অনেক দিক দিয়েই এইরকম গ্রামে থেকে গানকে পেশা হিসেবে নেওয়া ছিল দুরূহ কাজ। কারণ গ্রামের মানুষেরা এই ধরনের পেশাকে অন্য নজরে দেখে। 

সাজিয়া বলেন, এমন  অনেক সময় এসেছে যখন তিনি মানুষের  নেতিবাচকতার সম্মুখীন হয়েছেন এবং চিন্তা করেছেন এই পেশা ছেড়ে দেবেন। কিন্তু লক্ষ্যের প্রতি স্থির প্রতিজ্ঞা থাকায়  তিনি গান চালিয়ে যান এবং এই পেশায় তিনি গত ১৪ বছর ধরে আছেন। 

এই তরুণ গায়িকা বলেন যে এই জগতে কঠোর পরিশ্রমই হচ্ছে সফলতার মূল চাবিকাঠি। যারা এই পেশায় আসতে চায় তাদের সামনে এগিয়ে আসা উচিত এবং নিজেদের স্বপ্নকে পূরণ করা উচিত। সাজিয়া অন্য অনেক বিভিন্ন ভাষায় গান করেন কিন্তু তিনি বলেন যে তার প্রাধান্য থাকবে কাশ্মীরি ভাষাকে বিশ্বদরবারে নিয়ে যাওয়া ।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত সেই সব মানুষদের কে অনুপ্রাণিত করা এবং মানুষের সামনে তুলে ধরা যারা কাশ্মিরি ভাষার উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। 

গজল সুফি হামদ-নাত এরকম ধরনের হালকা গানের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পে কীর্তন ভজন এবং লীলা গান কাশ্মিরি পণ্ডিতদের জন্য। সাজিয়া শ্রীকৃষ্ণ ল্যাঙ্গু শ্রী টি.কে জালালির কাছ থেকে জ্ঞানপ্রাপ্ত হন। তিনি ওয়াহিদ জিলানী, মনির আহমেদ এবং কায়সার নিজামীর কাছে তালিম গ্রহণ করেন। 

তিনি ‘অল-গার্ল প্রগশ’ ব্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন। অন্যান্যদের মধ্যে রাজ বেগম, নাসিম আক্তার, আক্তার শামীম আজাদ, কেইল শাহ মেহেরা, দর্শনা মেহেরা, আরতী টিকু, জামেলা খান, শায়েস্তা আহমেদ, মেহমেত সায়েদ, রাশেদা তেহসিন এবং আক্তার ব্রাদার্সের হয়ে গান করেন। গত বছরে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওর পক্ষ থেকে এ-গ্রেড পেয়েছেন যা তার জন্য অনেক বড় সাফল্য। 

ইত্তেফাক/এএএম