ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার জি কে প্রকল্পের প্রধান খালের পাড় ভেঙে পানিতে প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর ও ফসলি জমি। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চরবাখরবার গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে লাঙ্গলবাধ-কুষ্টিয়া সড়কের যানবাহন চলাচল।
চরবাখরবা গ্রামের ফজলু মিয়া জানান, সাত-আট দিন আগে চরবাখরবার গ্রামে জি কে প্রধান খালের পাড়ে ছিদ্র হয়ে পানি বের হচ্ছিল। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে জানানো হয়। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তার অভিযোগ কর্মকর্তাদের গাফেলতিতে বৃহস্পতিবার সকালে জি কে প্রধান খালের বাম পাশের পাড়ের প্রায় ৫০ ফুট ভেঙে যায়। খালের পানি তীব্র বেগে চরবাখরবার গ্রামে ঢোকে। এতে প্রায় ১০০ বাড়িঘর ও কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি প্লাবিত হয়। দুপুর পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলেনি।
তিনি আরো জানান, এর আগেও ঐ এলাকায় খালের পাড় ভাঙা পানিতে কয়েকটি গ্রাম ও ফসলের মাঠ প্লাবিত হয়েছিল। খালের পাড়ের ওপর দিয়ে লাঙ্গলবাঁধ-কুষ্টিয়া পাকা রাস্তা রয়েছে। কিন্তু খালের পাড় ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একই গ্রামের ঝন্টু শেখ জানান, খালে প্রচুর পানি ছাড়ে জি কে প্রকল্প কতৃর্পক্ষ। কয়েক দিন ধরে পাড় ছিদ্র হয়ে পানি চুয়াচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে পানির চাপে পাড় ভেঙে যায়। পানি প্রবল বেগে গ্রামে ঢুকে পড়ে। পানি মাঠে ঢুকে ফসলের ক্ষতি করেছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তিনি জি কে প্রকল্পের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। আকলিমা বেগম বলেন, পানি তার ঘরে ঢুকেছে। রান্না হয়নি। ছেলে মেয়ে অভুক্ত আছে।
জি কে প্রকল্পের ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, খালের পাড় ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর খালে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খালের পাড়ের ভাঙা অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
