করোনা মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনার মাধ্যমে ৭ কোটি ২৯ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সময়োপযোগী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ কোভিড-১৯ অতিমারির ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বিপর্যয়কর অবস্থা সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। কোভিড-১৯ অতিমারিতে বিশ্বব্যাপী এযাবৎ আক্রান্ত হয়েছে অসংখ্য মানুষ, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬৩ লাখ মানুষ। অতিমারির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটে সারা বিশ্ব বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সরকার করোনাকালীন বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবার জন্য করোনা ভাইরাসের টিকার ব্যবস্থা করার ফলে বাংলাদেশ ব্যাপক জীবনহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন আর্থিক ও প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে করোনা ভাইরাসজনিত সংকট কাটিয়ে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে আমাদের অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সরকার সংকট মোকাবিলায় এবং অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে চারটি প্রধান কৌশলগত দিক সংবলিত স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে একটি সামগ্রি কর্মসূচি প্রণয়ন করে। এক্ষেত্রে আমাদের কৌশলগুলো ছিল সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেওয়া এবং কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় নিরুত্সাহিত করা, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্পসুদে কতিপয় ঋণ সুবিধা প্রবর্তন করা। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা এবং বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা। এসব কৌশলের আলোকে আমরা এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ২৮টি আর্থিক ও প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছি এবং এগুলোর সফল বাস্তবায়ন করে চলছি। সরকারের এ ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ফলে এ পর্যন্ত সরাসরি উপকারভোগী হয়েছেন প্রায় ৭ কোটি ২৯ লাখ ৯৭ হাজার ব্যক্তি ও প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার প্রতিষ্ঠান ।
