আড়াইহাজারে পরিবেশবান্ধব প্লাটিনাম গ্রিন কারখানা 

আপডেট : ১০ জুন ২০২২, ১০:৩৭

দেশের পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলোর মধ্যে অন্যতম মিথিলা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এটি ওভেন টেক্সটাইল ডাইংয়ে দেশেই নয়, বিশ্বের অন্যতম পরিবেশবান্ধব প্লাটিনাম গ্রিন কারখানা। রাজধানীর উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারার অন্যতম পুরোধা শিল্প উদ্যোক্তা খান পরিবারের সদস্যরা প্রতিষ্ঠা করেন লিড প্লাটিনাম ওভেন টেক্সটাইল ডাইং এ কারখানাটি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ কারখানাকে সরকার গত ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।
 
জানা যায়, ছত্রিশ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত রপ্তানিমূখী মিথিলা গ্রুপের এই পরিপূর্ণভাবে উৎপাদন শুরু করে ২০১৯ সালের প্রথম দিকে। এর অর্ধেক জায়গাই ফাঁকা, যেখানে বনায়ন হয়েছে। তিন বিঘার মধ্যে রয়েছে বিশাল একটি পুকুর। সেডের উপরের বৃষ্টির পানি সরাসরি পুকুরে পড়ে। স্বচ্ছ জলধারা এ পুকুরে পানি দিয়ে বাগানের পানি, অগ্নিনির্বাপক কাজে ব্যবহার করার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এই পুকুর নানা প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রেখে বাকি জায়গার উপর গড়ে তোলা হয়েছে কারখানা ভবন। এখানে আছে শ্রমিকদের জন্য সর্বোচ্চ ও আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। 

মিথিলা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) এবং লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) কর্তৃক সার্টিফাইড প্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রিন স্ট্যাটাস প্লাটিনাম ক্যাটাগরি ওভেন ফেভরিক ডাইং এ কারখানাটি সব ক্যাটাগরির শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটি বিশ্বে পঞ্চম শ্রেষ্ঠ গ্রিন ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান।

 
ফেব্রিক্স ইন্সপেক্টর রেজাউল বলেন, সাধারণ ডাইং কারখানাগুলোতে অধিক তাপমাত্রার কারণে কয়েকবছর কাজ করার পর শ্রমিকদের নানা রোগে আক্রান্ত হতে হয়। মিথিলার এই কারখানা গত চার বছর যাবৎ কাজ করছি। মোট ৫৪ জন শ্রমিক তার আওতায় কাজ করছে। নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা, প্রাকৃতিক বাতাস এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কারণে বেশ আরাম ও আনন্দে কাজ করছে তারা। ছুটিছাটা থেকে শুরু করে আপদ-বিপদে মিথিলার কর্তৃপক্ষ সবসময় শ্রমিকদের পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতা করে থাকে। সব শ্রমিক নিয়ে প্রতিবছর বিভিন্ন খেলার টুর্নামেন্ট, শীতে পিঠা উৎসব, বনভোজনসহ বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন করা হয়ে থাকে। শ্রমিকদের দক্ষতার ওপর এওয়ার্ড ও পদোন্নতি দেওয়া হয়।
 
পিচ ডিপার্টমেন্টের সহকারী ব্যবস্থাপক হৃদয় চন্দ্র রায় বলেন, প্রতি মাসে এক তারিখে বেতন প্রদান, প্রতি বছর ইনক্রিমিন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুযোগ, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এককালীন অর্থ প্রদান, শ্রান্তি বিনোদনসহ সরকারি সব সুযোগ সুবিধা মিথিলা দিয়ে থাকে। মালিক পক্ষ লাভের দশ শতাংশ শ্রমিকদের জন্য বরাদ্ধ রেখেছেন। ফলে প্রত্যেক শ্রমিক এ ফ্যাক্টরিকে নিজের মনে করে কাজ করে। কাজের জন্য কোনো সময়  কাউকে তাগাদা দিতে হয় না।

সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং আগামী প্রজন্মকে একটি ভালো পরিবেশ দেওয়ার লক্ষ্যে মিথিলা টেক্সটাইলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জানিয়েছেন মিথিলা গ্রুপের পরিচালক মাহবুব খান হিমেল। তিনি বলেন, এ কারখানাটি পরিবেশ বান্ধব করার জন্য জায়গা নির্ধারণ থেকে শুরু করে কনক্ট্রাশন ওয়ার্ক, পুরোপুরি উৎপাদন পর্যন্ত প্রত্যেকটি ধাপে বিশেষ নজর ছিল। সেই সঙ্গে গ্রিন ফ্যাক্টরি করতে যা যা রিকোয়ারম্যান্ট ছিল সব করা হয়েছে। কোনো দুর্ঘন্ধ নেই, চারিদিকে পাখির সুন্দর ডাক, ফ্লোরের ভেতরটাও নিট এন্ড ক্লিন সর্বোপরি শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ দেওয়া হয়েছে।শ্রমিকরা যাতে আনন্দের মধ্যে থেকে কাজ করতে পারে ওই পরিবেশ দেয়ার চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রোডাকশন ফ্লোরে সম্পূর্ণ দিনের আলোতে কাজ চলে। কোনো বৈদ্যুতিক লাইটের প্রয়োজন পড়ে না। সেডের উপর স্কাইলাইট ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দিনের আলোতে কাজ করতে পারছি। যেখানে তিনশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ লাক্স লাইটের প্রয়োজন। সেই আলো সম্পূর্ণ দিনের আলোতে সোর্সিং করে নিচ্ছে যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।
 
মিথিলা গ্রুপের চেয়ারম্যান আজাহার খান বলেন, আমাদের মেইন থিম হলো প্রোডাকশন সার্ভিস ইমপ্রোভমেন্ট এন্ড কমিটমেন্টের স্বচ্ছতার মাধ্যমে বায়ারদের ইমপ্রেস করা। যার জন্য বিশ্বমানের প্রোডাক্ট আমরা দিতে পারছি। বিশ্ব মানের ওভেন কাপড় তৈরি করার জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে মিথিলায়। বায়ারদের রিকোয়ারম্যান্ট পুরো বাস্তবায়নের জন্য প্রোডাক্ট কোয়ালিটি ইমপ্রোভ করার জন্য এক্সপার্ট, টেকনিশিয়ান, কেমিস্ট সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। মিথিলার ল্যাব সাইট বিশ্বমানের। ফলে বায়রারা মিথিলার টিমের সঙ্গে কাজ করে পুরোপুরি সন্তোষ্ট। আর এর অর্জন মিথিলার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইত্তেফাক/কেকে