মারিউপলে ছড়িয়ে পড়ছে কলেরা: মেয়র

আপডেট : ১১ জুন ২০২২, ১৮:৪৭

রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই ইউক্রেনের বন্দর নগরী মারিউপল বড় ধরনের সংকটের মুখে রয়েছে। সেখানে বাড়তি বিড়ম্বনা হিসেবে যোগ হয়েছে কলেরা।

ইউক্রেনের মারিউপলে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিপর্যস্ত, এমনটাই জানিয়েছেন সেখানকার মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কো। জাতিসংঘ জানিয়েছে, শহরের বেশিরভাগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং বিশুদ্ধ পানির লাইন নর্দমার সঙ্গে মিশে গিয়েছে।

ইউক্রেনের টেলিভিশেন দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে বয়চেঙ্কো বলেন, ‘‘পেটের পীড়া এবং কলেরার প্রাদুর্ভাব রয়েছে। আমাদের চিকিৎসকদের ধারণা, যুদ্ধের ফলে ২০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। এই সংক্রমণের ফলে আরো হাজার হাজার মারিউপলবাসীর মৃত্যু হতে পারে।''

বয়চেঙ্কো বর্তমানে মারিউপলে নেই। তার কথায়, ‘‘এই শহরটি কোয়ারেন্টিনে রয়েছে।''

ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারিউপলে এখনো লাখ খানেক মানুষ রয়েছেন। আগে মারিউপলে জনসংখ্যা ছিল চার লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি। যুদ্ধের ফলে এটি পতিতজমিতে পরিণত হয়েছে।

গত মাসে বয়চেঙ্কো বলেছিলেন, রাশিয়ান বোমাবর্ষণে মারিউপল শহরটি ‘মধ্যযুগীয় ঘেটো'তে পরিণত হয়েছে। পানীয় জল এবং পয়ঃনিষ্কাশন না থাকায় কূপের পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মানবিক করিডোর স্থাপন করে বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে যেতে সাহায্য করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সরবরাহেরও অভাব রয়েছে এই শহরে। 

গত মাসেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মারিউপলে কলেরার প্রাদুর্ভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, মারিউপলে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রায় বিপর্যস্ত এবং এই শহরে কলেরার প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। অধিকৃত অঞ্চলের জনগণকে ন্যূনতম পরিষেবা দিতে পারছে না রাশিয়া, এমনটাও জানায় তারা। কলেরা সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির কারণে হয়।

পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গেও এটির সম্পর্ক রয়েছে। মৃতদেহ সংগ্রহ না করার ফলে পরিস্থিতি আরো অস্বাস্থ্যকর হয়ে গিয়েছে, এমনটাও মনে করছে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রাশিয়া অবশ্য বয়চেঙ্কোর মন্তব্য কিংবা ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য নিয়ে কিছু জানাতে রাজি হয়নি। তবে মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেনের নিরস্ত্রীকরণে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান' অব্যাহত রয়েছে। 

 

ইত্তেফাক/এসআর