আবার মুশকিল আসান করতে চলেছে ইসিবি?

আপডেট : ১১ জুন ২০২২, ২১:৪৬

ইউরোপে চরম মূল্যস্ফীতির মোকাবিলা করতে আসরে নামছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদের হার বাড়িয়ে ও বন্ড কেনা বন্ধ করে ইউরো এলাকার সংকট কিছুটা হলেও সামাল দিতে চায় ইসিবি।

ইউরোপের একাধিক আর্থিক ও আর্থিক সংকটের সময় পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসিবি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে ১৯টি দেশে অভিন্ন মুদ্রা ইউরো চালু রয়েছে, সেই দেশগুলি এতকাল ইসিবি-র রক্ষাকবচের সুবিধা পেয়ে এসেছে। করোনা সংকটের ধাক্কা সামলাতে ইইউ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলির সুফল সবে টের পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা ও করোনা সংকট সামলাতে চীনের কড়া ‘জিরো কোভিড’ নীতি অর্থনীতির উপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা, কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্নের মতো কারণে অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে, ইউরোপের সাধারণ মানুষ যার কুফল হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

এমন চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, ইসিবি কি এ যাত্রায়ও পরিত্রাতা হিসেবে মঞ্চে আসবে কিনা এবং মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা করতে পারবে কিনা। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু পদক্ষেপের পূ্র্বাভাস দিয়েছে। মূলত সুদের হারে পরিবর্তন এনে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সামাল দিতে চায় ইউরোপের এই প্রতিষ্ঠান। জুলাই মাসে সুদের হার বাড়িয়ে ০.২৫ শতাংশে আনার পাশাপাশি ‘অ্যাসেট পারচেজ’ কেনা বন্ধ করতে চলেছে ইসিবি। উল্লেখ্য, গত ১১ বছরে ইসিবি সুদের হার বাড়ায় নি। গত মাসে ইউরো এলাকায় মূল্যস্ফীতির মাত্রা ৮.১ শতাংশ ছোঁয়ার পর আর হাত গুটিয়ে বসে থাকার উপায় ছিল না।

তবে এ যাত্রায় ইসিবি যে খুব বেশি সহায়তা করতে পারবে না, সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দ। বর্তমান পূর্বাভাসের ভিত্তিতে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বেশ কিছুকাল অপ্রিয় মাত্রায় বেশি থাকবে। তবে সেই মাত্রা ইসিবি-র লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনতে তিনি গ্রীষ্মের পর সুদের হার আরো বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, মূল্যস্ফীতির হার অপরিবর্তিত থাকলে অথবা আরও অবনতি হলে সেপ্টেম্বর মাসে ইসিবি-র বৈঠকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। 

সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে ইসিবি আরও একটি পদক্ষেপ নিচ্ছে। ঋণ সংকটের জের ধরে আর্থিক বাজারের উপর চাপ কমাতে ২০০৯ সাল থেকে এই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশাল আকারে বন্ড কিনে এসেছে। আগামী ১লা জুলাই থেকে সেই পদক্ষেপ বন্ধ করা হচ্ছে। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানো, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করার চেষ্টা চালিয়ে ইসিবি-র উপর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য চাপ বাড়ছে। 

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেড’ ও ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড আগেই বেশ কয়েক ধাপে সুদের হার বাড়িয়েছে। কিন্তু ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বিধা কাটিয়ে তুলতে আরও সময় নিয়েছে। কারণ একই সঙ্গে ১৯টি দেশের স্বার্থ রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ সামলানো মোটেই সহজ কাজ নয়। সুদের হার বাড়ালে ইটালির মতো ঋণের ভারে জর্জরিত দেশে দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে। আর্থিক বাজারে ইটালির সরকারি বন্ড বিক্রির হিড়িক দেখা দিতে পারে বলে একটা আশঙ্কা রয়েছে। আগেভাগেই সুদের হার বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়ে ইসিবি আচমকা অস্থিরতা এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।

 

ইত্তেফাক/এসআর