নিরাপত্তাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় পরিবর্তিত আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দেশীয় রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হবে। আজ সোমবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকটিকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন এবং আঞ্চলিক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইস্যু এই বৈঠকের মূল উপজীব্য হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এ বৈঠককে সামনে রেখে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে তাদের পৃথক পৃথক প্রতিবেদন সরকারের শীর্ষ মহলে পাঠিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে চলমান রাজনৈতিক ইস্যু, সরকারবিরোধী তৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী নানা অপপ্রচার, ক্ষমতাসীন দলের মাঠ পর্যায়ের অবস্থার বিশদ বিবরণ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেশি দেশের ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রভাব-প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও বিভিন্ন সংস্থা থেকে সরকারকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, নিরাপত্তাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটি দেশের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণি ফোরাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটি দ্বিতীয় সভা। তিনি নিজেই এই কমিটির সভাপতি। আজকের সভায় উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব, কমিটির সমন্বয়কারী, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যবৃন্দ। আগামী ২৫ জুন দেশের অর্থায়নে নির্মিত বৃহৎ পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে। ইতিমধ্যে এই সেতু নির্মাণ নিয়ে বিশ্বসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানা বিতর্ক। দেশের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক বেশকিছু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকার বেশ উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো অন্তর্ঘাতমূলক—এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সভা ডেকে সকলকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি যেন না থাকে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতব্যবস্থা, জনসভা এবং জনসভায় যোগদানকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় নিয়েই কাজ করছে সরকার। আঞ্চলিক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিও স্বাভাবিক নয়। এরকম বাস্তবতায় দেশের রাজনীতি বা আইনশৃঙ্খলার ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলছে বা ফেলতে পারে তা নিয়েও সরকারি মহলে আলোচনা চলছে।
সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকে এসব বিষয়ে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ও পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে ইতিমধ্যে দেশে-বিদেশে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা ম্লান করার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মাঠে রয়েছে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না সরকার। এসব মাথায় নিয়েই আজকের বৈঠকে কৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।
অপর একটি সূত্র জানায়, আজকের সভায় ঢাকার যানজট পরিস্থিতি নিরাপত্তার ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলছে বা ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে। সিটি করপোরেশন নাকি পুলিশের হাতেই ঢাকার যানজট নিরশন ব্যবস্থাপনা থাকবে সেটি নিয়ে কথা হবে বৈঠকে।
