সোনারগাঁওয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তার ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

আপডেট : ১৩ জুন ২০২২, ০৩:৫৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তার ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন ও মেরাজুল ইসলাম সোহাগের ওপর হামলা করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার এ অভিযোগ আসামির স্বজনদের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে রূপগঞ্জের যাত্রামূড়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান। গতকাল রবিবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় আহত সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন গতকাল সকালে সাত জনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় মামলা করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে মো. আমিনের বিরুদ্ধে একটি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. আমিনের অবস্থান জানতে পারে পুলিশ। পরে সোনারগাঁও থানার এসআই ফারুক হোসেন ও মেরাজুল ইসলাম সোহাগ সাদা পোশাকে শনিবার দুপুরে কাঁচপুর সিনহা ওপেক্স গার্মেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. আমিনকে গ্রেফতার করে দেহ তল্লাশি করে। তল্লাশি শেষে পুলিশ ভ্যানে উঠানোর সময় কৌশলে আমিন ভ্যান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ধাওয়া করে পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার যাত্রামূড়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে থেকে আমিনকে পুনরায় গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় মো. আমিনের নেতৃত্বে তার স্বজন হাফিজউদ্দিন, বিনা বেগম, আছমা বেগম, আউয়াল, শরীফ আরমানসহ ১০-১২ জনের একটি দল লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় হামলাকারীরা একটি ওয়াকিটকি, ইস্যুকৃত ওয়ারেন্টের কাগজ ও দুটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানাপুলিশের কয়েকটি দল গিয়ে তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা মেরাজুল ইসলাম সোহাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/ ইআ