শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট পরবর্তী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ০৬:৫১

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্র্যাক বিজনেস এন্ড ইকোনমিকস ফোরাম ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বাজেট পরবর্তী এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

শনিবার (১১ জুন) 'পোস্ট বাজেট ডায়ালগ ফিসকাল ইয়ার ২০২২-২৩' শীর্ষক এই আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে অংশ নেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের প্রফেসর এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এবং আইপিডিসি ফিনান্স এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও মোমিনুল ইসলাম।

সভায় আলোচকবৃন্দ এবারের বাজেটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রণীত বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বাজেটে ইতিবাচক অনেক কিছু রয়েছে তবে বাজেট বাস্তবায়ন করাটাই সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।

ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের প্রফেসর ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বিকভাবে বাজেটে যে সমস্ত টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলোকে আমি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি, কিন্তু এর বাস্তবায়ন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে, আমার কাছে এটা বস্তুনিষ্ঠ বলে হয় না।’

বাজেট ঘাটতি নিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এবার বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, এটা গ্রহণযোগ্য। বর্তমান প্রেক্ষিতে বাজেট ঘাটতি ৬ শতাংশ ধরলেও আমার তাতে আপত্তি থাকতো না।’

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসহ পণ্য সাপ্লাই চেইন ব্যহত হয়েছে সেই কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, সেই সাথে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। তাই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ব্যয় বাড়ানো দরকার ও প্রকৃত দরিদ্ররাই যাতে এর সুফল ভোগ করতে পারেন এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশে আয় বৈষম্য ও আঞ্চলিক বৈষম্য বেড়েছে বলে জানান ড. মির্জ্জা আজিজ। তিনি বলেন, ‘রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে যেটা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে এবং চট্টগ্রামে কম। আঞ্চলিক বৈষম্য না কমাতে পারলে জাতিসংঘের এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।'

আইপিডিসি ফিনান্স এর সিইও মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৭ শতাংশ কর দিয়ে পাচারকৃত টাকা বৈধ করার সুযোগ দিলেও খুব একটা অর্থ দেশে আসার সম্ভাবনা কম। প্রায় ১৭টি দেশ সাম্প্রতিক সময়ে একই চেষ্টা করেছে, কোনো দেশই খুব ভালোভাবে সফল হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, 'প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টিউশন ফির ক্ষেত্রে ভ্যাট দিতে হবে, এখন এগুলোকে ইনকাম ট্যাক্সের আওতায় আনা হচ্ছে। এটা চিন্তার বিষয়। এর ফলে ভবিষ্যতে এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুরোপুরি মুনাফা নির্ভর হয়ে যেতে পারে।’ নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনা সভা শেষে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের  করা বাজেট বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদরা। এ সময় ল্যাপটপ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ট্যাক্স প্রত্যাহারে বিষয়ে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান ডিপার্টমেন্ট অব ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্স এর চেয়ারপারসন এএফএম ইউসুফ হায়দার। বাজেট বিষয়ক এই সংলাপটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক শামীম এহসানুল হক।

ইত্তেফাক/এসটিএম