পুলিশে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের ভালো জায়গায় পদায়ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়া এক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সিন্ডিকেটের এক সদস্য। ডিআইজিকে তিনি বলেছেন, ‘পদোন্নতি পেয়েছেন, কোথায় পোস্টিং নেবেন বললেন না? যোগাযোগ না করলে ভালো জায়গায় পদায়ন হবে না।’ উত্তরে ডিআইজি বলেন, ‘আমি কখনো যোগাযোগ করে পদোন্নতি পাইনি। যোগ্যতায় পদোন্নতি পেয়েছি। সরকার যেখানে পদায়ন দেবে, সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।’
সম্প্রতি ডিআইজি পদে ৩২ জন ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে ১১৯ জন পদোন্নতি পেয়েছেন। অতিরিক্ত এসপি থেকে এসপি পদে পদোন্নতি পান ৩৩ জন। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ ডিআইজি বলেন, সিন্ডিকেটের সদস্যরা পুলিশ বিভাগ ও সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছেন। সিন্ডিকেটের সদস্যদের যেন নীতিনির্ধারকরা মূল্যায়ন না করেন। ডিআইজি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, পুলিশ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে। বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা যেভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, অতীতে কোনো সরকারের আমলে তা করা হয়নি। এ কারণে কনস্টেবল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর আস্থাশীল। কিন্তু গুটিকয়েক সিন্ডিকেটের সদস্য পুরো পুলিশ বাহিনীকে প্রশ্নের মুখোমুখি করছেন। ঐ সিন্ডিকেটের কারণেই পুলিশে পদোন্নতি দেরিতে হয়েছে। আবার পদায়নেও দেরি হচ্ছে তাদেরই কারণে। তাদের প্রভাব সর্বক্ষেত্রে। তাদের কারণেই নীতিবিবর্জিত কিছু লোক পুলিশে ঢুকেছে। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিতদেরও একাধিক রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকাংশ এসপি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তারা অধিকাংশ সময় রুমে বসে থাকেন। ছবি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। থানা পর্যায়ে কোনো ধরনের মনিটরিং করেন না। ঐসব জেলায় মাদকদ্রব্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ। অবশ্য তারা জেলায় এসপি হয়ে গেছেন সিন্ডিকেটকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব, এসিআর রিপোর্ট ও পিএসপির মেরিট লিস্টের ভিত্তিতে পুলিশে পদোন্নতি ও পদায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু সিন্ডিকেট অর্থের বিনিময়ে নিয়ম না মেনে অযোগ্যদের পদোন্নতি ও পদায়ন দেয়। পদায়নের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা নয়, ঘুষই প্রাধান্য পায় সিন্ডিকেটের কাছে।
বরিশাল বিভাগের একটি জেলায় দায়িত্বরত এসপি বলেন, যেখানে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী থাকবে, সেখানে কেন আমি থাকব? এসপির দায়িত্ব পালনকালে তিনি ঐ জেলায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করেছেন। এই ধরনের এসপি দেওয়া উচিত সব জেলায়—এমনটিই মনে করেন সচেতন মহল। আরো কয়েকটি জেলায় এই ধরনের সৎ ও নিষ্ঠাবান এসপি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঐসব জেলার স্থানীয় প্রতিনিধিগণ।
