চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে প্রাণ গেলো স্কুলছাত্রের

আপডেট : ১৪ জুন ২০২২, ০৪:২৪
চুয়াডাঙ্গায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে রোহান (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খুলনাগামী নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চুয়াডাঙ্গা শহরের বেলগাছি ও ফার্মপাড়ার মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছালে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যায় রোহান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
 
নিহত রোহান চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা গ্রামের ক্লাবপাড়ায় সিএনজি চালক রায়হানের ছেলে রোহান ও উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খুলনাগামী নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চুয়াডাঙ্গা শহরের বেলগাছি ও ফার্মপাড়ার মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছালে চলন্ত ট্রেন থেকে একজনকে পড়ে যেতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে পরিচয় সনাক্ত করা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে আসে।
 
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নূর জাহান রুমি বলেন, ‘ওই কিশোরের মাথা-পাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আহত রোহানকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে চুয়াডাঙ্গা ত্যাগ করেন।’
 
অ্যাম্বুলেন্স চালক রাশেদ বলেন, ‘ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুর পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি হয়। সেখান থেকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
 
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মী রাসেল হোসেন মুন্না বলেন, ‘নিহত রোহানের বাড়ির পাশেই আমার বাড়ি। সে টিকটক, ছবি তোলার জন্য প্রায় ট্রেনযোগে চুয়াডাঙ্গায় যাতায়াত করতো। সোমবার ট্রেনে করে বাড়ি ফেরার পথে ছবি তুলছিল। এসময় তার হাত ট্রাফিক সিগন্যালে লেগে পড়ে যায়।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘তার মা প্রাবাসী। বাবা সিএনজি চালক। বাবার সাথেই থাকতো রোহান। রাত ১২টার দিকে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে স্বজনরা।’
 
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহব্বুর রহমান বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে রেলের ট্রাফিক সিগন্যালে হাত বেধে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।’
 
ইত্তেফাক/এসজেড