শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফাঁসাতে বাবাকে গলা কেটে হত্যা!

আপডেট : ১৪ জুন ২০২২, ০৮:৩০

শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফাঁসাতে শেষ পর্যন্ত নিজের বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেছে পুত্র। নিহত ব্যক্তির নাম সুরুজ আলী (৬৫)। ছেলে সুজাত মিয়া (২৮) সুনামগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক শামীম আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাংসারিক অশান্তি ও হতাশা থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে শায়েস্তা করতে বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেছে নিজাম। সে নিজের দোষ স্বীকার করে মা, ভাই ও বোনের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বাবাকে হত্যার ঘটনায় ছেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলেন, আসামি সুজাত মিয়ার স্ত্রী গত এক বছর ধরে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত। যাওয়ার আগে তার দুই সন্তানকে শ্বশুর বাড়ি রেখে যান। তিনি বিদেশ থেকে তার স্বামীর কাছে টাকা না পাঠিয়ে বাবার বাড়িতে পাঠান। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে স্ত্রীকে তালাক দিতে শ্বশুর বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে সন্তানদের দেখতে শ্বশুরবাড়ি গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফাঁসাতে বাবাকে গলা কেটে হত্যা করে। এই হত্যার দায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ওপর চাপাতে চেষ্টা চালান সুজাত।

পুলিশ জানায়, গত ৬ জুন রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে সুরুজ আলী ছোট ছেলে সুজাত মিয়ার ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে সুজাত মিয়া তার ঘুমন্ত বাবাকে শ্বাসরোধ করে নিস্তেজ করে ফেলেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কেটে দেন। পরে পাশের বাড়ির লোকজনদের গিয়ে বলেন, একদল ডাকাত তার বাবাকে হত্যা করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে খোদেজা বেগম বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েক জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুধবার পুলিশ সন্দেহজনকভাবে ছেলে সুজাতকে গ্রেফতার করে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে শনিবার বিকালে সুজাত মিয়া দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানায় ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিসহ বেশকিছু আলামত জব্দ করা হয়।

ইত্তেফাক/এমআর