যমুনা নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে নদীগর্ভে বিলীন হলো ঐতিহ্যবাহী তারকা মসজিদ। গতকাল সোমবার সকালে এনায়েতপুর থানা সদরের ব্রাহ্মণগ্রামের এই নান্দনিক মসজিদটি নদীগর্ভে চলে যায়। এছাড়া গত এক সপ্তাহে ৩৫টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্টরা সঠিক সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তবে পাউবো সূত্র বলছে, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, সোমবার ভোর থকে হঠাৎ করে যমুনা নদীতে স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। দেখতে দেখতে নদী পাড়ে শুরু হয় ভাঙন। বিলীন হয়ে যায় তারকা জামে মসজিদের পূর্বাংশের প্রধান ফটকসহ মসজিদের বারান্দার অর্ধেক অংশ। এতে মুহূর্তের মধ্যে নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক। মসজিদের পাশের এলাকায় এখনো চলছে ভাঙন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, এখনো ভাঙন ঠেকাতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পাউবো।
মসজিদের ইমাম হাফেজ জহুরুল ইসলাম জানান, আজও (সোমবার) ফজরের নামাজ পড়েছি। হঠাৎ করে ভোরবেলা থেকে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেল এলাকার ঐতিহ্যবাহী তারকা জামে মসজিদ। নদী পাড়ে অবস্থিত মসজিদটি দেখতে বেশ কয়েক বছর ধরে মানুষ এখানে আসত। এদিকে খুকনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া জানান, ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে পাঁচিল পর্যন্ত নদীর তীর সংরক্ষণে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ শুরু হয়েছে। তারপরও কেন এই ভাঙন। কাজের অগ্রগতি ও সঠিক তদারকির অভাবেই বারবার নদী পাড়ে ভাঙন। তারকা মসজিদসহ ব্রাহ্মণগ্রামের প্রায় অর্ধশত বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। এলাকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, চৌহালি উপজেলার যমুনা তীরবর্তী এলাকার ভাঙন আছে। তবে যে সব এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে সেই এলাকায় ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভাঙন রোধে ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, চৌহালি নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য ৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এটি পাশ হলেই আগামী শুষ্ক মৌসুমে ভাঙন রোধে কাজ করা হবে।
