খন্দকার মোহতাশেম হোসেন বাবর ছিলেন ফরিদপুর সদরের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এক দশক নিয়ন্ত্রণ করেছেন ফরিদপুরের রাজনীতি। সময়ের পালাবদলে তিনি আজ আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলার প্রধান আসামি।
এই মামলায় তার জামিন শুনানিকালে হাইকোর্ট বলেছেন, এ মামলায় সংঘটিত অপরাধের মাস্টারমাইন্ড হলেন বাবর। যাকে আমরা রিং লিডার বলতে পারি। এলজিইডিসহ এমন কোনো সেক্টর নেই যেখান থেকে তিনি টেন্ডারবাজির কমিশন পাননি। তার দেওয়া আশ্রয় ও পরামর্শে অন্যান্য আসামিরা এই অপরাধ সংঘটিত করেছেন। বাবরের কর্মকাণ্ডের কারণেই সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এ ধরণের আসামিকে জামিন দিবো কেন?
মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তাকে জামিন দেয়নি আদালত। জামিন আবেদনটি খারিজ করে দিলে তার আইনজীবী ‘নট প্রেস’করার আবেদন জানান। তখন হাইকোর্ট বলেন, আমরা নট প্রেস আদেশ দিচ্ছি। তবে পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। যা আপিল বিভাগ তার পর্যবেক্ষণে বলেছে। আর এই মামলায় বিপুল অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে শুনানিতে বাবরের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, আসামির বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নাই। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাম এসেছে এমন ৪২ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এজাহারে নাম ছিল না কিন্তু চার্জশিটে বাবরকে আসামি করা হয়েছে। আদালত বলেন, মামলার নথিতে দেখতে পাচ্ছি বাবর হলেন এই অপরাধের মূল হোতা। আসামি যেহেতু একজন সাবেক মন্ত্রীর ভাই সে কারণে এলাকায় তার একটা নেতৃত্ব রয়েছে। এই আসামির আশ্রয় পরামর্শে এই টেন্ডারবাজি ও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেখানে টেন্ডারবাজি করেননি। আদালত বলেন, অর্থ পাচার হলো গুরুতর অপরাধ। এই অর্থ পাচারকারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। শুধু শত্রুই নয়, তারা দেশ ও সরকারের সুনাম নষ্ট করেছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক বলেন, অর্থ পাচার তো একটা সংঘবদ্ধ অপরাধ। আর ওই টেন্ডারবাজি সিন্ডিকেটের প্রধান হোতাই বাবর। বাবরের আইনজীবী বলেন, বাবরের শ্বশুর ছিলেন সাবেক মন্ত্রী। পারিবারিকভাবেই তারা বিত্তশালী। চাঁদাবাজি করার দরকার হয় না। এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, যার আছে সেই তো বেশি করে। প্রবাদ আছে বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট। কিছুই যদি না করেন তাহলে আসামি হবেন কেন? আর আপনার সঙ্গে কি কারো কোনো শত্রুতা আছে। আপনি অপরাধী কিনা সেটা বিচারেই প্রমাণিত হবে।
প্রসঙ্গত আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় বাবর, সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি। ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। গত ৭ মার্চ ঢাকা থেকে বাবরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই থেকে কারাগারে আছেন।

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় দম্পতির যাবজ্জীবন
আড়াইহাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৬ ব্যবসায়ীকে জরিমানা