রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা থামছেই না। এরই মধ্যে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন বিদেশে কোনৈ সফরে থাকলে তার বিশেষ দেহরক্ষীরা তার মলমূত্র সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে সেগুলো মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সংবাদ মাধ্যমটি দাবি করেছে, পুতিনের শত্রুভাবাপন্ন কেউ তার এসব মলমূত্র সংগ্রহ করতে পারেন। পরবর্তীতেপরীক্ষার মাধ্যমে পুতিনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক বেশি তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। এমন আশঙ্কায় পুতিনের দেহরক্ষীরা সেগুলো সংগ্রহ করে থাকে।
ফ্রান্সের নিউজ ম্যাগাজিন প্যারিস ম্যাচ-এর এক প্রতিবেদনে সর্ব প্রথম এই দাবি করা হয়। এরপর অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোও প্রতিবেদনটি ছাপায় এবং এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে।
প্যারিস ম্যাচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশ সফরকালে পুতিনের মলমূত্র সংগ্রহ করা হয় এই দাবি- দুই ঝানু তদন্তকারী সাংবাদিক এই তথ্য সংগ্রহ করেছে। দুই বইয়ের লেখক রেজিস জেন্টে এবং ১৩ বছর রাশিয়াতে কর্মরত সাংবাদিক মিখাইল রুবিন এই দাবি করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেল প্রোটেকশন সার্ভিস পুতিনের মল সংগ্রহের দায়িত্বে থাকে। দেশটির ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে এই ফেডারেল প্রোটেকশন সার্ভিস।
রুবিন ও জেন্টে জানিয়েছেন, বিদেশ সফর চলাকালীন পুতিন মল-মূত্র ত্যাগ করতে গেলে সেই সময় একজন এফএসও এজেন্ট সেসব মলমূত্র সংগ্রহ করেন। সেসব একটি প্যাকেটে সংরক্ষণ করেন এবং পরে স্যুটকেসে করে সেগুলো রাশিয়ায় ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।
ডকট্রিন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি কনসালটিংয়ের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) কর্মকর্তা রেবেকা কফলার ফক্স নিউজকে বলেন, ‘নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনো ধরনের তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে পড়তে পারে সে শঙ্কায় থাকেন পুতিন। ক্ষমতা পরিবর্তন ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এমন একটি চিত্র তুলে ধরতে চান যে তিনি অনির্দিষ্টকাল রাশিয়া শাসন করতে থাকবেন।’
ইনডিপেনডেন্ট দাবি করেছে, একটি বিশেষ প্যাকেটে এই শারীরিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। প্যাকেটগুলো শুধু এ জন্য ব্যবহৃত একটি ব্রিফকেসে রাখা হয় রাশিয়ায় ফেরত পাঠাতে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, পুতিনের ২০১৭ সালের ফ্রান্স সফর ও ২০১৯ সালের সৌদি আরব সফরে এইভাবেই তার মল-মূত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। খবরে আরও বলা হয়েছে, পুতিন ক্ষমতায় আসার শুরু থেকেই বিদেশ সফরের সময় এ নিয়ম মেনে আসছেন।
