শুরু হয়েছে দেশসেরা হাঁড়িভাঙ্গা আমের মৌসুম। আজ বুধবার থেকে পুরোদমে বাজারে আসছে বিখ্যাত এই আম। এরই মধ্যে মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার পদাগঞ্জ হাটে শেষ হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। কিন্তু হাটের অধিকাংশ বেদখল হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। বাধ্য হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আম বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, এই হাটে ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আমের আড়ত বসে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত হতে পাইকাররা আসেন আম কিনতে। গড়ে ২০০ ট্রাক আম বেচাকেনা হয় এই হাটে। বর্তমানে হাটে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বেশির ভাগই বেদখল করে রেখেছে স্থানীয়রা। হাটে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আমচাষিরা রাস্তায় বসে বেচাকেনা করত। কিন্তু সেখানেও স্থানীয় দোকানদাররা রাস্তার জায়গা দখল করে রেখেছেন। আমচাষিরা অবৈধভাবে দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।
পদাগঞ্জ হাটে আম বিক্রি করতে আসা চাষি আকবর আলী বলেন, হাটে আম বিক্রি করতে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। জায়গা নেই। যেটুকু আছে তার বেশির ভাগই কাদায় পরিপূর্ণ। এছাড়াও অবৈধ দোকানঘর বসিয়ে হাট ও রাস্তার জায়গা দখল করা হয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।
খোড়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, হাঁড়িভাঙ্গা আম আমাদের ঐতিহ্য। এই আম স্থানীয় অর্থনীতিতে চাঙ্গা ভাব এনেছে। কিন্তু, হাটে আম বেচাকেনা করার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বেশির ভাগ জায়গা বেদখলে রয়েছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পদাগঞ্জ হাট ইজারাদার কামরুজ্জামান বলেন, অনেক চেষ্টা করেও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। তাই আমের বাজার সংকোচিত হয়ে পড়েছে।
হাটে জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা একটি দোকানের ভাড়াটে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জায়গা নাই। ব্যবসা করি কীভাবে? তাই, রাস্তার ধারে জায়গা নিয়ে দোকান করেছি।’ একই কথা বলেন চান্দু মিয়াসহ আরো অনেকে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, হাটের উন্নয়নে ইতিমধ্যে মাটি ভরাটের কাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
