নগরীর শেখ রাসেল পার্কের সামনের ফুটপাত ও সড়ক ভাড়া দিয়ে টাকা আদায় করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বিভিন্ন পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। এ কারণে পার্কের ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন না পথচারীরা। ফলে উদ্বোধনের আগেই সৌন্দর্য হারাতে বসেছে শেখ রাসেল পার্ক।
জানা গেছে, নগরবাসীর বিনোদনের কথা চিন্তা করে নির্মাণ করা হচ্ছে নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ রাসেল লেক-পার্কটি। উদ্বোধন না হলেও পার্কের নির্মল বাতাস অনুভব করতে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে প্রচুর লোকসমাগম ঘটে এখানে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সড়ক ও ফুটপাতে হকারদের দোকান বসানোর বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ পার্কটি এখন হকার ও স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজের আয়ের বড় উৎস। পাঁচ-ছয় বর্গফুট হিসেবে একেকটি দোকান বসিয়ে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত সালামি নেয় প্রভাবশালীরা। একই সঙ্গে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ নেওয়া হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আশপাশের কিছু বাড়িওয়ালাও লেকের ফুটপাত-সড়ক দখল করে দোকান বসিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো পার্কের সামনের ফুটপাত ও সড়ক হকারদের দখলে। চারুকলা ইন্সটিটিউটের গেটের সামনে থেকে শুরু করে শুক্কুর কারী মসজিদের সামনে, সরদারবাড়ির সামনে, খানকা গলির মোড়, পাক্কা রোডের মোড়, ২ নম্বর বাবুরাইলের মোড়, ১ নম্বর বাবুরাইলের মোড় হয়ে জিমখানায় পুরাতন মসজিদ পর্যন্ত তিন শতাধিক টং দোকান রয়েছে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ এসব দোকানে হরেক খাদ্যদ্রব্য ও পণ্য বেচাকেনা চলছে। প্রত্যেক দোকানদার আবার ক্রেতাদের জন্য চেয়ার বসিয়েছে পার্কের ফুটপাতে। ফলে চলাচলের জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। তবে এসব দেখার যেন নেই কেউ। মাঝে মাঝেই শেখ রাসেল পার্কের ওয়াকওয়েতে হাঁটতে আসেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভোগান্তির কথা ক আর বলব। আইভী আপা এত সুন্দর লেক-পার্ক নির্মাণ করে দিলেন নগরবাসীর জন্য। কিন্তু হকারদের কারণে আমরা এর সুফল ভোগ করতে পারছি না। ওরা যেভাবে দোকান খুলে বসেছে, তাতে আমাদের হাঁটাচলার কোনো জায়গাই নেই। তাই আমাদের তথা সাধারণ মানুষের দিকে বিবেচনা করে এদিকে নজর দেওয়ার জন্য মেয়র মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ ফতুল্লাতে তেমন কোনো পার্ক না থাকায় সময় পেলেই পরিবার নিয়ে শেখ রাসেল পার্কে আসেন জাহিদ হাসান।
পার্কের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এক কথায় আইভী আপা নারায়ণগঞ্জবাসীকে অত্যন্ত সুন্দর ও চমত্কার একটি স্থান উপহার দিয়েছেন। তবে, ফুটপাতের দোকানদারদের কারণে লেকের ওয়াকওয়েতে হাঁটা মুশকিল। নাসিক কতৃর্পক্ষের উচিত, পার্কটির দিকে একটু নজর রাখা, যাতে করে এত সুন্দর একটি স্থান ও পরিবেশ দখলদারির কারণে হারিয়ে বা নষ্ট না হয়ে যায়।’ উল্লেখ, পার্কের সামনে ফুটপাত বসাকে কেন্দ্র করে এর আগে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবুও নীরব নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।
