গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে জার্মানির আরও উদ্যোগ

আপডেট : ১৫ জুন ২০২২, ১৫:২৯

রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমাতে গ্যাসের বিকল্প উৎস সন্ধানের পাশাপাশি জার্মানি গাজপ্রমের প্রাক্তন জার্মান শাখার জন্য বেলআউটের পরিকল্পনা করছে। দেশে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস বণ্টন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

রাশিয়া থেকে ধাপে ধারে কয়লা ও তেল আমদানি কমাতে পারলেও প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশ এখনো অসহায় অবস্থায় রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহের রাতারাতি কোনো বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মতো দেশ থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে হলে এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন নেটওয়ার্কের ব্যাপক রদবদল করতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা ও দ্রুত পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে এত বড় পরিবর্তন বেশ কঠিন।

রাশিয়া থেকে ধাপে ধারে কয়লা ও তেল আমদানি কমাতে পারলেও প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশ এখনো অসহায় অবস্থায় রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহের রাতারাতি কোনো বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মতো দেশ থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে হলে এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন নেটওয়ার্কের ব্যাপক রদবদল করতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা ও দ্রুত পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে এত বড় পরিবর্তন বেশ কঠিন।

একদিকে, চলমান সংকট সত্ত্বেও গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা, অন্যদিকে দেশের মধ্যে সেই গ্যাস বণ্টন চালু রাখতে চায় চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সরকার। মঙ্গলবারই সরকার জার্মানিতে রাশিয়ায় গাজপ্রমের শাখা কোম্পানিকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাতে বেলআউটের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। সম্ভবত ৯০০ থেকে এক হাজার কোটি ইউরো সরকারি ঋণের মাধ্যমে ‘গাজপ্রম গ্যারমানিয়া' কোম্পানি আপাতত টিকে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেটা সম্ভব হলে জার্মানির গ্রাহকদের জন্য গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন এড়ানো যাবে।

উল্লেখ্য, ১লা এপ্রিলের পর ‘গাজপ্রম গ্যারমানিয়া' রাশিয়ার গাজপ্রম কোম্পানির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। তার কয়েকদিন পরেই জার্মান সরকার কোম্পানিটিকে রাষ্ট্রীয় ট্রাস্টিশিপের অধীনে নিয়ে আসে৷ মে মাসের মাঝামাঝি রাশিয়া ‘গাজপ্রম গ্যারমানিয়া' কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর ফলে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠান। বেলআউটের মাধ্যমে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর এই অংশের উপর প্রভাব বজায় রাখতে পারবে বসে সরকার আশা প্রকাশ করেছে। সরকার অদূর ভবিষ্যতে কোম্পানিটির নাম বদলে ‘সিকিয়োরিং এনার্জি ফর ইউরোপ' রাখতে চলেছে। সেপ্টেম্বর মাসে সরকারি তত্ত্বাবধানের মেয়াদ শেষ হবার পরেও দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে জার্মান সরকার এই কোম্পানির অংশীদার হবার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা করছে।

বর্তমান সংকট সত্ত্বেও জার্মান সরকার গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ দেখছে না। আপাতত শীতের মাসগুলিতে গ্যাসের বণ্টন নিশ্চিত করতে জার্মানিতে গ্যাসের ট্যাংক ভরে রাখার জোরালো উদ্যোগ চলছে বলে সরকার জানিয়েছে। আপাতত সেই স্টোরেজ প্রায় ৫৫ শতাংশ ভরা সম্ভব হয়েছে৷ ‘গাজপ্রম গ্যারমানিয়া' কোম্পানিই সেগুলির মালিক।

ইত্তেফাক/টিআর