চট্টগ্রাম থেকে সৌদি আরবে সরাসরি হজ ফ্লাইটের যাত্রা শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুন) প্রথম ফ্লাইটে সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা শরীফ গিয়েছেন ৪১৭ জন হজযাত্রী। তাদেরকে নিয়ে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। এসময় বাংলাদেশ বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, হাব ও আটাব নেতৃবৃন্দ তাদের বিদায় জানান।
করোনা মহামারীর কারণে গত দুই বছর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রী পরিবহন বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর গতকাল পুনরায় হজযাত্রীদের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হজযাত্রায় সামিল হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সবাই।
হজযাত্রী পরিবহন বিষয়ে বিমানবন্দরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন খান বলেন, চট্টগ্রাম থেকে এ বছর সর্বমোট ৫ হাজার ২০০ হজ্বযাত্রী সৌদি আরবে যাবেন। সম্মানিত আল্লাহর মেহমানদের যাতে কোনো ধরণের ভোগান্তি না হয় সেজন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বিমানের হজ ফ্লাইটে সাধারণত বিজনেস ক্লাস থাকে না। সব যাত্রীদের জন্য একই সুবিধা। তবে যদি কেউ বিমানের সামনের দিকে আসন পেতে আগ্রহী হন তাহলে একমুখী ভ্রমণের জন্য ১৫০ ডলার এবং উভয়মুখী ভ্রমণের জন্য ২৫০ ডলার প্রদানের মাধ্যমে আগে থেকেই তা নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রাম বিমাবন্দরে বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য আলাদা লাউঞ্জ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ হিসাবে বিমান ২৮ হাজার ৭৯৩ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে। তবে সরকারি প্রতিনিধিসহ ২৯ হাজার হজযাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ জুন) পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করেছে বিমান। তিনি জানান, এবছর হজ পূর্ববর্তী ৬৫টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান যার মধ্যে চট্টগ্রাম- জেদ্দা রুটে ৯টি, চট্টগ্রাম-মদিনা রুটে ২টি এবং সিলেট-জেদ্দা রুটে ২টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। একইভাবে হজ পরবর্তী ৬৫টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বিমান ৬২ হাজার ৭৯৬ জন এবং ২০১৯ সালে ৬৬ হাজার ২৮৬ জন হজযাত্রী পরিবহণ করেছিল। তবে সৌদি সরকারের আরোপিত বয়স সীমাসহ বিভিন্ন শর্তের কারণে এবার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
