ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু চলচ্চিত্রের দিকেই এখন বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এরইমধ্যে খল-অভিনেতা হিসেবে নিজের বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন একটি চলচ্চিত্র। নিজের নতুন চলচ্চিত্র, অভিনয় পরিকল্পনাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল।
আপনার ‘অমানুষ’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। এটায় আপনার ভূমিকা নিয়ে জানতে চাই।
অবশ্যই ছবিটিতে খল-চরিত্রে দর্শকরা আবারও আমাকে দেখতে পাবেন। ছবিটির গল্পে যেমন বৈচিত্র্য আছে, তেমনি আমার চরিত্রটিও অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। তা-ছাড়া আমার চরিত্রের মাঝে অনেক পার্ট রয়েছে, যেগুলোতে কাজ করতে গিয়ে অনেক মজা করেছি।
প্রথমবারের মতো দেশসেরা খল-অভিনেতা মিশা সওদাগরের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন। অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
যেহেতু আমি খল অভিনেতা হিসেবে কাজ করছি এবং মিশা ভাইয়ের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, সেই জায়গা থেকে দারুণ এনজয় করেছি। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও অনেক ভালো ছিল।
একই দিনে দুটি ছবি হলে আসছে। কিন্তু দর্শক খরার এই সময়ে দুটি ছবি মুক্তি একটু ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে না?
আসলে এই বিষয়টি তো আমার হাতে নেই। এটা নির্মাতা-প্রযোজকের বিষয়। তারা যেটা ভালো মনে করেন, সেটাই করবেন।
দর্শক অনীহার এই সময়ে হলের পাশাপাশি ওটিটিতে ছবি মুক্তি দিলে ইতিবাচক কিছু হবে মনে করছেন কি-না?
না, আমার সেটা মনে হয় না। আমাদের অবশ্যই হলে দর্শক ফেরাতে হবে। কারণ একটি ছোট স্ক্রিনে তো হলের পরিবেশ তৈরি করা যাবে না। তা-ছাড়া একটি ছবি তো হলের জন্যই নির্মাণ করা হয়। অবাক করা বিষয় হলো সারাবিশ্বে যখন স্ক্রিনের সংখ্যা বাড়ছে, তখন আমাদের দেশে কমছে। আমার মনে হয়, সিনেমাহলকে সিনেমাহলের জায়গায়ই রাখা উচিৎ।
দর্শক ফেরানোর জন্য কোন পদক্ষেপগুলো নেওয়া প্রয়োজন মনে করেন?
প্রথমত, ভালো ছবি নির্মাণ করতে হবে। যেখানে ভালো অভিনয়, স্ক্রিপ্ট, গল্প থাকবে। এ ছাড়া, সিনেমাহলে দর্শকদের ছবি দেখার পরিবেশ ঠিক করে দিতে হবে। পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণার দিকে আরও নজর দিতে হবে। ছবিটি মুক্তির আগে এবং পরে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
আসছে ঈদ উপলক্ষে নতুন কোন কাজগুলো করছেন?
ঈদের বেশ কয়েকটি নাটক এবং ওয়েব সিরিজে কাজ করবো। এছাড়া ঈদে ‘নেটওয়ার্ক’ এবং ‘সিন্ডিকেট’ ওয়েব সিরিজ দুটি মুক্তি পাবে|
এর বাইরে নতুন চলচ্চিত্রের ব্যস্ততা...
‘জলরঙ’ ছবির কাজ শেষ করলাম। ‘কয়লা’ ছবির অর্ধেক কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া নতুন একটি ছবির কাজ শিগগিরই শুরু করার কথা রয়েছে।
সিনেমা, নাটকের পাশাপাশি ওয়েব সিরিজেও নিয়মিত কাজ করছেন। অনেকেই বলছেন, ওয়েব সিরিজ টিভি নাটকের ওপর প্রভাব ফেলছে। আপনি কী বলবেন?
না, আমার মনে হয় না ওয়েব সিরিজ নাটকের ওপর প্রভাব ফেলছে বা ফেলবে। দুটি মাধ্যমই কিন্তু আলাদা। নাটকে সব বলা না গেলেও ওয়েব সিরিজে অনেক কিছু বলা যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে ওয়েব সিরিজের দর্শক বাড়ছে। কিন্তু নাটকের দর্শক কিন্তু আগের মতোই আছে।
ইদানিং ভিউ বাড়ানোর চিন্তায় নাটক ওয়েব সিরিজে অশ্লীল সংলাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
দেখুন, কোনটা শ্লীল আর কোনটা অশ্লীল সেটা সময়ই বলে দেবে। আজ যেটাকে অশ্লীল মনে হচ্ছে সেটাকে কাল শ্লীলও মনে হতে পারে! কিন্তু নাটকের ক্ষেত্রে আমি বলবো, আমাদের নাটক বরাবরই সমাজের বিরাট ভূমিকা রাখে। সেই জায়গায় তার মান ধরে রাখার বিষয়ে শিল্পী, নির্মাতাসহ সংশ্লিষ্ট সবারই দায়বদ্ধতা রয়েছে। শুধু ভিউয়ের জন্য কেন আমি অশ্লীল সংলাপ বলতে যাবো? আমি কী সমাজের সুস্থধারা ধরে রাখতে দায়বদ্ধ নই?
বর্তমানে চলচ্চিত্র ঘিরেই অপুর ব্যস্ততা চলছে। তাহলে কী নাটক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন?
গত বছর থেকে নাটকের চেয়ে সিনেমার ব্যস্ততা আমার বেশি চলছে। সামনেও সিনেমাকে অগ্রাধিকার দিতে চাই। তবে নিয়মিত নাটকেও কাজ করার ইচ্ছে আছে।
