ভাষা প্রতিবন্ধিতা মোকাবেলায় ‘যোগাযোগ স্বাস্থ্য’ খাত সৃষ্টি করতে হবে

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ১৩:৩২

ভাষা প্রতিবন্ধিতার শিকার জনগোষ্ঠী সমাজে অবস্থান করছে, কিন্তু নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারায় নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যার জন্য এ শ্রেণীর মানুষেরা সমাজে ভালো মানুষ বা কর্মী হয়ে অবস্থান করতে পারছে না। তাদের কথা ভাবার সময় এসেছে, তাদের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ স্বাস্থ্য খাত সৃষ্টি করতে হবে। বুধবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। মাতৃভাষা ও প্রতিবন্ধিতা শীর্ষক সেমিনারটি সকাল ৯টায় শুরু হয়ে চলে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। সেমিনারে ৫ জন প্রবন্ধ উপস্থাপক ভাষাগত সমস্যা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।  

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মানবগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছেন। এ ধরনের বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শ্রেণীকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। তাদেরকে নিয়েই সমাজ এগিয়ে যাবে। ভাষাগত বিবেচনায় যেসব জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধিতার শিকার তাদের জন্য যোগাযোগ স্বাস্থ্য খাত তৈরি করতে হবে। আর এর দায়িত্ব যদি স্বাস্থ্যখাত গ্রহণ করে, তাহলে এখানে বড় ধরনের সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি হবে।  

সভাপতির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফ বলেন, মাতৃভাষা মানুষের অধিকার। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা যেমন অধিকার মাতৃভাষায় কথা বলতে পারাও মানুষের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। শারীরিক ত্রুটি, জন্মগতভাবে কিংবা অন্য কোন কারণে কেউ যদি কথা বলতে না পারে তাহলে তার অধিকার লঙ্ঘিত হয়। কিছু শিশু, বয়স্ক মানুষ বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার শিকার হয় এবং কিছু মানুষ শারীরিক সমস্যার কারণে নিজেদের ভাষা প্রকাশ করতে পারছে না। এদের মাতৃভাষাগত, আচরণগত সমস্যা আছে। এ সমস্ত মানুষ সমাজে অবস্থান করছে, কিন্তু নিজেদের অধিকার আদায় করতে পারছে না, ভালো মানুষ বা কর্মী হয়ে সমাজে অবস্থান করতে পারছে না। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠেছে। এ শ্রেণীর মানুষকে এ পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। তাদের নিয়েও ভাবতে হবে। তাদের কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। তাদের থ্যারাপি কিংবা ট্রিটমেন্ট দিয়ে কিভাবে সমাজের মূল স্রোতের সাথে একিভূত করা যায় তা আমাদের ভাবতে হবে। এর জন্য যোগাযোগ স্বাস্থ্য নামে একটি নতুন খাত তৈরি করতে হবে। সরকারকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে।  

এসময় স্বাগত বক্তব্যে রাখেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও পরিকল্পনা) মাহবুবা আক্তার ও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক। 

ইত্তেফাক/এআই