নাজিরপুরে জমে উঠেছে চাইয়ের হাট

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ১৭:৪০

বর্ষার নতুন পানির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে খাল-বিল, নদ-নদীতে দেখা মেলে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আনা-গোনা। আর এসব মাছ ধরতে প্রয়োজন হয় বাঁশের তৈরি চাই, ঘূর্ণি বা দুয়ারীর। চিংড়িসহ ছোট মাছ ধরতে চাইয়ের চাহিদা প্রচুর। এ শিল্পকে কুটির শিল্পের সঙ্গে তুলনা করেন হস্তশিল্প কারিগররা। 

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী বন্দরে বাজারে জমে উঠেছে পাইকারি এসব মাছ ধরার ফাঁদের হাট। সপ্তাহে রবিবার ও বুধবার এ হাটে হাজার হাজার মাছ ধরার ফাঁদ (চাই) খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি হয়। জেলা সহ বরিশালের নিম্নাঞ্চল, ভোলা, পটুয়াখালী, বামনা, চরফ্যাশন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ যন্ত্র কিনতে আসেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও জেলেরা। 

নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার চাই, ঘূর্ণি ও দুয়ারী তৈরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বছরের বর্ষা মৌসুমের ৬ মাস তারা এসব মাছ ধারার ফাঁদ তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। বিভিন্ন জাতের বাঁশ দিয়ে এ ফাঁদ তৈরি করেন তারা। একটি বাঁশ দিয়ে ২০ থেকে ২৫ টি চাই তৈরি করা হয়, তবে একজন শ্রমিক একদিনে ১০ থেকে ১২টি এবং প্রকার ভেদে আরো বেশি বা কম চাই তৈরি করতে পারেন। 

বাজারে মান ভেদে কুড়ি (২০) টি চাই ২ হাজার ৫ শত টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকেন। এসব ফাঁদ তৈরির প্রতিটি বাঁশ কেনা হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। 

শ্রীরামাকঠী ইউনিয়নের ভীমকাঠী গ্রামের পরিমল সিকদার জানান, এসব চাই আমাদের কাছ থেকে পাইকারা কিনে  থেকে কিনে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়ের জন্যে পাঠান। এবছর চাইয়ের বাজার দর অন্য বছরের চেয়ে বেশি হওয়ায় লাভের আশা করা যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এআই