বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘দল সমর্থিত নির্বাচন থেকে সুপ্রিম কোর্ট বারকে মুক্ত করার আহ্বান’

সংবাদ সম্মেলনে বার সংবিধান সংরক্ষণ কমিটি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ০০:০৪

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের নির্বাচনকে এখন দলীয় রূপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি সংবিধান সংরক্ষণ কমিটি নামের একটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার ল’ রিপোর্টার্স ফোরামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলের সমর্থিত সাদা ও নীল প্যানেলের ব্যানারে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। আইনের শাসন, গণতন্ত্র এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট বারের কোন বিকল্প নেই। 

সে কারণে পারস্পারিক আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্যানেলের বৃত্ত থেকে বারের এই নির্বাচনকে মুক্ত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি আইনজীবী শাহ আহমেদ বাদল, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মামুন মাহবুব, নির্বাহী সভাপতি এ.বি.এম. রফিকুল হক তালুকদার রাজা, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, মুস্তাফিজুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম আশরাফ।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের পক্ষ বলা হয়, ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুর পর বারের এক বছর কার্যক্রম হয়েছে সভাপতি বিহীন। সভাপতি নির্বাচনের জন্য একবার উদ্যোগ নিলেও তা ব্যর্থ হয়। বারের সংবিধানের ২০ অনুচ্ছেদ লংঘন করে কার্যনির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল যা বেআইনি, বিশেষ করে কোন বাজেট প্রণয়ন না করেই বারের তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বার বার তৎকালীন কার্যনির্বাহী কমিটিকে অনুরোধ জানিয়েছি, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা, লিফলেট বিতরণ গণতান্ত্রিক সমস্ত রীতিনীতি অনুযায়ী করতে। কিন্তু উনারা গায়ের জোরে এক বছর কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং তার শেষ পরিণতি হচ্ছে সংবিধান লঙ্ঘন করে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা। ভোট গ্রহণ হয়েছিল কিন্তু ভোট গণনা হয়নি। 

বারের সাবেক সভাপতিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বারের সাবেক সভাপতিদের কারো কারো আচরণে আমরা হতাশ। অথচ তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আছেন যারা নিজেদের স্বার্থে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বারের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দিয়েছিলো। আর সাবেক সম্পাদকরা সভাপতি হওয়ার স্বপ্ন বিভোর রয়েছেন। বর্তমানে বারে যে চরম নৈরাজ্য দেখা যাচ্ছে তা হচ্ছে রোগের লক্ষণ। এজন্য রাজনৈতিক প্যানেলের বৃত্ত থেকে বারের নির্বাচনকে মুক্ত করে, সংবিধান এবং নির্বাচন রুলস ২০০১ অনুযায়ী ভবিষ্যতে বারের নির্বাচন পরিচালিত হয়, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি