বারোমাসিয়া নদীর ভাঙনে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ১৬:০২

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে টানা দুই সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। 

শুক্রবার সকাল ৯ টায় ধরলা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এ নদীর পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া, ব্যাপক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদ-নদীর চরাঞ্চল এবং নিম্নাচঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে চরাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এসব এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

একই দিন দুপুরে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালাতাড়ি ও কৃষ্ণানন্দ বকসী এলাকার বারোমাসিয়া নদীর র্তীর ভাঙনে গোরকমন্ডল, কৃষ্ণানন্দ বকসি ও বালাতাড়ি হয়ে বালারহাট যাওয়ার সড়কটির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট কাঁচা সড়ক বারোমাসিয়ায় বিলীন হয়ে যায়। এতে তিন গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন। ফলে চরম দূর্ভোগ নিয়ে ওইসব এলাকার মানুষ জরুরি প্রয়োজনের তাগিদে প্রায় চার-থেকে পাঁচ কিলোমিটার অতিক্রম করে বালারহাট বাজারে যাচ্ছেন। ভারী বৃষ্টিপাত ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পূর্বফুলমতি ও বালাতাড়ি গ্রামের প্রায় ১০টি বাড়ির মানুষ  পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন। 

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসেন আলী জানান, বারোমাসিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে কৃষ্ণনন্দ বকসি এলাকার যাতায়াতের সড়কটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় গোরকমন্ডল, কুষ্ণানন্দ বকসি ও বালাতাড়ি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে কৃষ্ণানন্দ বকসী ও গোরকমন্ডল এলাকার মানুষ ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বালারহাট যাচ্ছেন। ওই দিকে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হওয়া বারোমাসিয়া নদীর ঝুকিপূর্ণ ব্রিজটিতে চাপ বাড়ছে। ঝূকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করা যাবে না। তাই ব্রিজের দুই পাশে লাল নিশান টাংগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।   

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উজানে বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের সবকটি  নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নদ-নদীর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগমী ৪৮ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। সেইসঙ্গে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম চলমান আছে। এদিকে, ধরলা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এ নদীর পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/মাহি