পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ৪ নম্বর ইকড়ি ইউনিয়নে অস্ত্রের মুখে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি মো. শামীম মৃধা (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাতে ঢাকার উত্তরা থেকে স্থানীয় র্যাবের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে বলে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার শামীম একজন সিরিয়াল ধর্ষক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে শামীমকে এখনো এলাকায় আনা হয়নি। এর আগে গত ১১ জুন রাতে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়ায় গত ১১ জুন দুপুর ৩ টার দিকে ঐ স্কুলছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত শামীম দেশীয় অস্ত্রের মুখে স্থানীয় নাসির উদ্দিন হাওলাদারের কলা বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকজনকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। গত ১৩ জুন এলাকায় ধর্ষণে অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেফতারের দাবিতে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় র্যাবের হাতে আটকের খবরে এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস বইছে বলে জানান উপজেলার ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু। অভিযুক্ত শামীম মৃধা পেশায় একজন শ্রমিক। সে উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামের মৃত আব্দুল বারেক মৃধার পুত্র এবং একাধিক মামলার আসামি।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, ওই যুবক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর আত্মগোপনে ঢাকায় চলে যান। গ্রেফতার শামীম একজন সিরিয়াল ধর্ষক। এর আগে গত ২০১৭ সালে ১ নভেম্বর স্থানীয় এক মাদরাসা ছাত্রী মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে রামদা দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন শামীম। এছাড়া ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি গভীর রাতে সে ভাণ্ডারিয়া এলাকার এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে তাদের ঘরের দরজা ভেঙে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের অভিযোগে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।
