চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় চার জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আকবর শাহ থানার ওসি ওয়ালি উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাত ১টার দিকে নগরীর ঝিলের বরিশাল ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা একটি বসতির ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে মাটির নিচ থেকে চার জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এদের মধ্যে দুই বোন শাহীনুর আকতার (২৬) ও মাইনুর আকতারকে (২৪) চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পাহাড়ধসের ঘটনায় আহত হন তাদের নানা ফজলুল হক ও নানি রানু বেগম। তারা চট্টগ্রাম মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন আছেন।
অন্যদিকে গতকাল শনিবার (১৮ জুন) ভোরে ফয়’স লেক সি ওয়ার্ল্ডের পাশে বিজয়নগর এলাকায় পাহাড়ধসে লিটন (২৪) ও ইমন (১৪) নামে দুই জন মারা যায়।
ঝিলের বরিশাল ঘোনায় মৃত শাহীনুর আকতারের যমজ দুই শিশু প্রাণে বেঁচে গেছে। তাদের নাম তাজকিয়া ইসলাম তানহা ও তাকিয়া ইয়াছমিন তিন্নি। পাহাড়ধসের সময় যমজ শিশু দুটিকে মা শাহীনুর বুকে আগলে রেখেছিলেন। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করেন। ঘটনার রাতে নিহত শিশুদের বাবা জয়নাল আবেদিন ও তার আরেক ছেলে তরিকুল ইসলাম তানিম এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
রাঙ্গামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গামাটিতে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় শহরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের টিম, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, কয়েক দিন ধরে ভারী বর্ষণের কারণে সম্ভাব্য পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি শহরের লোকনাথ মন্দির, শিমুলতলী, রূপনগর, মোনঘর এলাকাসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে জরুরি সভা করেছি এবং রাঙ্গামাটি শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আরো জানান, প্রাথমিকভাবে রাঙ্গামাটি শহরে ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাঙ্গামাটির অন্যান্য উপজেলায়ও প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
খাল-নালার বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, টানা বৃষ্টিপাতে পুরো নগরী পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমরপানিতে তলিয়ে গেছে। গত দুই দিন যাবত চট্টগ্রামে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নগরীর চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেইট, কেবি আমান আলী রোড, আগ্রাবাদ, হালিশহর, শুলকবহর, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে। আগে বৃষ্টি হলে এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যেত, কিন্তু বর্তমানে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজের জন্য খালে ও নালায় বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশিত হতে পারছে না। সিটি করপোরেশন খালের বাঁধগুলো খুলে দেওয়ার জন্য জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। কয়েকটি সরানো হলেও বেশির ভাগ বাঁধ এখনো রয়ে গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
