তামিম আউট হওয়ার পর দলীয় ৬৩ রানে জুটি বেঁধেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ১০৬ রান। হাফসেঞ্চুরির জন্য প্রতীক্ষায় ছিলেন মুশফিক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুজনই আউট হয়ে গেলেন মাইলফলকের কাছাকাছি গিয়ে। দলীয় ১৬৯ রানে প্লাঙ্কেটের বলে জেসন রয়ের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। ৫০ বল থেকে দুটি চার ও একটি ছক্কার মারে তিনি করেন ৪৪ রান।
নতুন করে মাঠে নামা মিঠুন আউট হয়ে যান এক রান যোগ হতেই। তবে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করলেন সাকিব। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এর আগে কেবল মাহমুদউল্লাহ দুটি সেঞ্চুরি করেন। এখন বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নাম লেখালেন সাকিব। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৩ ওভারের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ চার উইকেটে ১৮২ রান।
প্রথম দুই ম্যাচে সাকিব করেন যথাক্রমে ৭৫ ও ৬৪ রান। সেই ধারায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবার সেঞ্চুরি করলেন তিনি। ৩৮৭ রানের বিশাল লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে দলীয় ৮ রানে সৌম্য সরকার বিদায় নেন। এরপরই তামিমের সঙ্গী হন সাকিব। দলীয় ৬৩ রানে তামিমও (১৯) ফিরে যান সাজঘরে। পরে সাকিবের সঙ্গী হন মুশফিক। তৃতীয় উইকেটে ১০৬ রান যোগ করে ফিরেন মুশফিক। মিঠুন ফিরে যান এর পরপরই।
কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শনিবার বিকেলে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড করেছে ছয় উইকেটে ৩৮৬ রান। জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্ট জুটি ১২৮ রানের দারুণ একটা ওপেনিং জুটি গড়েন। এরপর মাশরাফির বলে মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বেয়ারস্ট। আউট হওয়ার আগে ৬৫ বল থেকে ১০টি চার ও একটি ছক্কার মারে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
এরপর রুটকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটান সাইফুদ্দিন। দলীয় ২০৫ রানে ব্যক্তিগত ২১ রানে ফিরেন জো রুট। তবে জেসন রয়কে ব্যক্তিগত নবম সেঞ্চুরি করা থেকে বিরত থাকতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ পর্যন্ত দলীয় ২৩৫ রানে আউট হন রয়। এর আগেই ১২১ বল থেকে ১৪টি চার ও পাঁচটি ছক্কার মারে ১৫৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। সেই সুবাদে ইংল্যান্ডকে বড় স্কোরের ভিত্তি নির্মাণ করে দেন এই ইংলিশ ওপেনার।
পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে জস বাটলার ৬৪ ও ইয়ন মরগান ৩৫ রান করেন। ৯ বল থেকে ২৭ রান নিয়ে প্লাঙ্কেট ও ৮ বল থেকে ১৮ রান নিয়ে ক্রিস ওয়েকস অপরাজিত থাকেন।
প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় এবং দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অল্প ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। অপরদিকে ইংল্যান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে তারা পাকিস্তানের কাছে ১৪ রানে হেরেছে। তৃতীয় ম্যাচটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দু’দলের কাছেই।
ইত্তেফাক/কেআই
