ব্ল্যাক মেইলের শিকার হয়ে যুবকের আত্মহত্যা, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ২০ জুন ২০২২, ১৯:৪৫

দশমিনায় ব্ল্যাক মেইলের শিকার হয়ে রমেন ঘরামী (২৮) নামের এক যুবকের বিষপানে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। রমেন দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রামের রনজিৎ ঘরামীর ছেলে। 

রবিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজ গ্রামের রাস্তায় আত্মহত্যার আগে ডাক চিৎকার দিয়ে লোক জড়ো করে এ ঘটনার বর্ণনা দেন রমেন। রমেনের বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে দশমিনা সদর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের কাঁচা সড়কে বিষপান করে মাটিতে লুটিয়ে পরে রমেন চিৎকার করে বলেন, বাড়ির পাশের নুরু খাঁনের ছেলে নিজাম খাঁন এক মহিলার সঙ্গে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ ও ছবি তুলে তার কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এরপর সেই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে রমেন ও তার পরিবারকে আরো টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন নিজাম। 

নিজাম পটুয়াখালী সদরে পরিচ্ছন্ন কর্মীর কাজ করেন। অব্যাহত চাপের এই যন্ত্রনা সইতে না পেরে রমেন বিষপান করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনা স্থলে উপস্থিত কয়েক ব্যক্তি বিষপানের পর রমেনের স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্য ও মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিলে বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। 

এ সময় রমেন অচেতন হয়ে পড়লে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন রমেনকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে রমেনকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে। ওই দিন রাতেই পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রমেনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে নিজাম খাঁন আত্মগোপনে রয়েছেন। নিজামকে কেউ খুঁজে পাচ্ছেন না। রমেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার সহ পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রমেনের বাবা রনজিৎ ঘরামী ছেলেকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে জানিয়ে দোষিদের বিচার দাবি করেন। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য কবির হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি তবে বিস্তারিত জানিনা। দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, রমেনের মৃত্যুর ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি পটুয়াখালী সদর থানায় অন্যান্য সকল প্রসেস ওখানেই হবে। আমাদের এখানে কিছু নেই।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি