গত পাঁচ দিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বান্দরবান জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ৫ হাজার পরিবারের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অত্যন্ত ঝূঁকিতে রয়েছে। মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসন, লামা ও বান্দরবান পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতিদিন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মো. ইসলাম বেবী জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাণহানি যাতে না হয়, সে জন্য পাহাড়ের চূড়া কিংবা পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। মাইকিং চলছে। জেলা সদরে আপাতত ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
পাহাড়ের চূড়া ও পাদদেশে বসবাসকারীরা বলেন, ‘টানা বৃষ্টি হচ্ছে জেনেও বাড়িঘর ছেড়ে আমরা কোথায় যাব? প্রতিদিন কাজ করেই আমাদের খাবার জোটে। বৃষ্টির কারণে আয়-রোজগার নেই। বাড়িঘর ছেড়ে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছি না। সরকার প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি শুরু হলেই মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বলে। বৃষ্টি কমে গেলে কেউ আর খবর রাখে না।’
জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়িগুলোর লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। যারা যাবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা প্রশাসনকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকা তৈরি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আমাদের আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় শিল্পকারখানা স্থাপনের কারণে উচ্ছেদ হয়ে বৈরাগ ইউনিয়নের বদুলপুড়া গ্রামে এসে আশ্রয় নেয় দেড় শতাধিক পরিবার। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে এসব পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে আসছে। ভারী বর্ষণের কারণে যে কোনো মুহূর্তে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বদুলপুড়া গ্রামে পাহাড়ে বসবাসকারীদের যাতায়াতের রাস্তায় একপাশে পাহাড় ধসে পড়ে আছে। ঐ পাহাড়ি এলাকায় দেড় শতাধিক পরিবারের বসবাস রয়েছে। তার মধ্যে অনেকগুলো পরিবারের ঘরবাড়ির অবস্থান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করলেও এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো ধরনের সতর্ক করা হয়নি।
স্থানীয় ১ নম্বর বৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওয়াব আলী বলেন, ‘আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাজ করব।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, পরিবারগুলো যে জায়গায় বসবাস করছে, সেটা কেইপিজেডের জায়গা। কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে হবে।
