বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ডিএনডির শাখা খাল পানিতে টইটম্বুর, নিষ্কাশনে ধীরগতি

আপডেট : ২১ জুন ২০২২, ০৪:৩৩

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের নিম্নাঞ্চলে এবারও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় ফেজ) প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ডিএনডিবাসী আবারও দুর্ভোগের আশঙ্কা করছে। বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে। প্রায় অর্ধশত সরকারি স্থাপনা, স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি। যদিও ডিএনডির পানি নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মেয়াদ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত।

জানা যায়, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই ডিএনডির নিম্নাঞ্চলের খালগুলোতে পানি উপচে পড়ছে। ভারী বৃষ্টি হলেই আবার তলিয়ে যাবে রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের অনেকের বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলে যাদের বাড়ি অনেক পুরোনো তাদের ঘরে এবারও পানি উঠেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ কদমতলীর বাসিন্দা এম এ মাসুদ বাদল জানান, ‘ঘরের পানি সেচ দিতে মোটর লাগিয়েছি। ১৯৯৪ সালে বাড়ি করেছি। এখন নতুন যারা বাড়ি করেছে তাদের বাড়ি উঁচু হওয়ায় সব পানি আমার বাড়িতে আসে। কদমতলীর ক্যানেল পাড় এখন দুই হাত পানির নিচে। ’

তিনি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিয়ে অনেকটা সরব। গতকাল সোমবার তিনি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত জলাবদ্ধতার খবর ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। সেখানে রাসেল নামে এক ব্যক্তি কমেন্টস করেন, ‘ভাই টানা বৃষ্টি হলে অবস্থা সিলেট ও সুনামগঞ্জের চাইতেও ভয়াবহ হবে। তাই আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। আমি গত তিন দিন আগে শিমরাইল পাম্প ও ডিএনডি পাম্প হাউসে গিয়েছিলাম, যাওয়ার পরে যে পরিস্থিতি দেখলাম শুধু ডিএনডি পাম্প হাউসের একটা পাম্প চালু ছিল। শিমরাইল পাম্প হাউসের একটা গেট বাদে সবগুলো বন্ধ ছিল। কারণ জিজ্ঞাসা করতে কর্তব্যরত সেনাবাহিনীর একজন সদস্য বললেন, আগে ম্যানুয়ালি সবগুলো পাম্প চলত, এখন আমরা অটো করব, বিদেশ থেকে টেকনিশিয়ান এসেছে, মোটরের ক্ষতি হবে বিধায় রিস্ক নিচ্ছি না, তখন আমি অনুরোধ করে আসি যেন মোটর চালানো হয়, আর ডিএনডি পাম্প স্টেশনে অনুরোধ করে আসি, যদি পারেন আরো দু-একটা পাম্প চালু করবেন। প্রকল্প পরিচালক ওয়াপদা ভবন মতিঝিল ঢাকা অফিসে সেখানে সচেতন কিছু লোকের স্বাক্ষরিত দরখাস্ত দিতে পারলে অন্ততপক্ষে নির্বিঘ্নে ঈদ করা যেত।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্পের পরিচালক রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, ২০২৩ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও পুরোপুরি জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে না। ক্যানেল থেকে নিচুতে যাদের বাড়িঘরও রাস্তা-ঘাট তাতে অতি বৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য জলাবদ্ধতা হবে। ডেমরা-আদমজী-নারায়ণগঞ্জ সড়কের আদমজীতে কালভার্ট নির্মাণ চলছে। বিকল্প ব্যবস্থায় দু-একদিনের মধ্যে পুনরায় আদমজী পাম্প চালু হবে। তিনি আরো জানান, ১৯৬২-৬৮ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ডিএনডি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। খাল থেকে কৃষি জমি নিচু ছিল। সেই কৃষি জমিতেই বাড়ি-ঘর নির্মাণ করায় ঐ এলাকার বৃষ্টির পানি খালে এসে পৌঁছায় না। একটি সূত্র জানায়, বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়ে ধীরগতি। তাই প্রকল্পের কাজে ঠিকাদারদের কাজও ধীরে চলছে।

উল্লেখ্য, জলাবদ্ধতার কারণে ও প্রায় ২২ লাখ লোকের দুর্ভোগ লাঘবে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকের সভায় ৫৫৮ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প পাশ হয়। ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় ফেজ) প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়নি ডিএনডি প্রকল্প কাজ। বরং বেড়েছে প্রকল্পের মেয়াদ, সঙ্গে বেড়েছে প্রকল্প ব্যয়। ৫৫৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে এখন ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ