রাজিবপুরে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নতুন করে অনেক এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদী ভাঙনও বেড়েছে। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য সংকট তীব্র হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন বানভাসীরা। চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, মঙ্গলবার (২১ জুন) বিকেল ৩ টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজিবপুরে পানি বৃদ্ধিতে মৎস্য বিভাগের ৮৮৫টি পুকুরের মধ্যে ৪৬টি ডুবে গেছে। প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফসল তলিয়ে গেছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে শিশুখাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, গো-খাদ্য ও জ্বালানির তীব্র সংকট। বিশেষ করে কাজ কাম না থাকায় নিম্ন আয়ের দিনমজুর পরিবারে খাদ্য সঙ্কট প্রকট হয়েছে। গো-চারণভূমি ও চরাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য মিলছে না। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের কারণে হাট-বাজার যাতায়াতসহ যোগাযোগে ভোগান্তিতে পড়েছে বানভাসি মানুষ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বানভাসিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিনে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ২০হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১০টি বাড়ি। প্রায় ২হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। কোদালকাটি চরের বানভাসি কজন বলেন, পশু নিয়ে তারা চরম বিপদের মধ্যে আছে।
কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ছক্কু বলেন, যে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। আমার ইউনিয়নের মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে তারা খাবার পাচ্ছে না।
রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত চক্রবর্তী বলেন, আমরা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করছি। বন্যাদুর্গত মানুষের খোজ নিচ্ছি। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। আমাদের নিকট পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।
