বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রংপুরে জাল টাকা কারবারির প্রধান আসামি টিএএসআই কারাগারে

আপডেট : ২১ জুন ২০২২, ২০:৫১

রংপুরে জাল টাকার কারবারির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের টিএএসআই আল আমিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ জুন) রংপুর জেলা ও দায়রা জজ শহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। 

পরে পুলিশি পাহারায় আসামিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত টিএএসআই আল আমিন বর্তমানে ঢাকায় ডেল্টা ২১ কন্ট্রোলরুম প্রটেকশন বিভাগ ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশে কর্মরত। রংপুরে কর্মরত থাকাকালে জাল টাকা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

বিবরণে আরও বলা হয়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত বছরের ৫ জুলাই রংপুর নগরীর মুলাটোল এলাকার দুই বন্ধু সোহান ও নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার জিসানকে নগরীর সোডাপীর এলাকায় একটি হোটেলে ফোন করে ডেকে আনেন টিএএসআই আল আমিন। এরপর তার পকেট থেকে ৫০০ টাকার এক বান্ডিল জাল নোট দেখিয়ে বলেন-এসব চালাতে পারলে অর্ধেক দাম দিলেই চলবে। তারা টাকা নিতে অস্বীকার করলে অনেকটা জোর করে জাল নোট  দিয়ে বলেন-চেষ্টা করে দেখতে চালানো যায় কি না। এ ঘটনার পর ওই দিন রাতেই দুই বন্ধু মিঠাপুকুর যান। বাসায় ফেরার পথে নগরীর দমদমা এলাকায় পুলিশ তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করে ৫টি জাল ৫০০ টাকার নোট পায়। এরপর তাদের নগরীর তাজহাট থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা টিএএসআই আল আমিনের নাম বলেন। পরে এ ঘটনায় তাজহাট থানার এসআই আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে জিসান, সোহান ও এএসআই আল আমিনের নাম উল্লেখ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। আসামি জিসান ও সোহান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জাল টাকা টিএএসআই আল আমিন তাদের দিয়েছে বলে জবানবন্দিতে জানান। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে টিএএসআই আল আমিনসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চার্জশিট দাখিল করে। আজ মঙ্গলবার আসামি টিএএসআই আল আমিন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

এ ব্যাপারে সরকার পক্ষের আইনজীবী পিপি আব্দুল মালেক অ্যাডভোকেট জানান, প্রাথমিকভাবে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশের কর্মকর্তা জাল টাকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিষয়টি দুঃখজনক।

ইত্তেফাক/এএএম