বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পদ্মা সেতু

ঢাকাকে প্রভাবিত করার চীনা নকশা ব্যর্থ, বিরক্ত সরকার

আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ১৯:৩৮

পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন করবেন। সেতুটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। 

গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নোবেলজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের মোহাম্মদ ইউনুসের 'কথিত প্ররোচনায়' বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির উল্লেখ করে ঋণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর পর বাংলাদেশ সরকার নিজে এই সেতুর অর্থায়ন করে। 

চীনের রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ (আরএমবিইজি) পদ্মা সেতু নির্মাণ করলেও চীনা সরকার বাংলাদেশের জনগণকে প্রভাবিত করার জন্য বলেছে, এই সেতুটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) এর একটি অংশ এবং এর ফ্রন্ট অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ চায়না সিল্ক রোড ফোরাম (বিসিএসআরএফ)।  

ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাও হোটেলে ২২ জুন পদ্মা সেতু নিয়ে বিসিএসআরএফ একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করার ছিল। সেই আলোচনার আমন্ত্রণ পত্রে আলোচ্য বিষয় হিসেবে লেখা হয়, ‘পদ্মা সেতু: বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার দৃষ্টান্ত’।  

আমন্ত্রণ পত্রে ওই অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক হিসেবে ঢাকায় চীনা দূতাবাসেরও নাম ছিল। বাংলাদেশ-চীন সিল্ক রোড ফোরামের সভাপতি দিলীপ পড়ুয়ার সভাপতিত্বে ওই আলোচনায় ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। ওই অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক ফি শুসা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়।  

এই নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জুন পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে, বিভিন্ন মহল দেখানোর চেষ্টা করছে যে পদ্মা সেতু ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের’ অংশ এবং বিদেশি অর্থায়নে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। 

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুস্পষ্টভাবে দাবি করছে, পদ্মা বহুমুখী সেতু সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে এবং অন্য কোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক তহবিল সংস্থার কোনো বিদেশি তহবিল এটি নির্মাণে আর্থিকভাবে অবদান রাখেনি। বাংলাদেশি ও বিদেশি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নিয়োজিত ছিল।’  

এছাড়া গত ২০ জুন চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে ১৯ জুনের দূতাবাস প্রাঙ্গণে একটি ইভেন্টের ছবি ও রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সম্বলিত একটি বিবৃতি প্রচার করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেরশের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুরোধে এই ইভেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। 

এরপরই বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় তারা চীনের এই অবস্থানে অসন্তুষ্ট এবং পদ্মা নিয়ে চীনা দূতাবাসকে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে বলে। এছাড়া চীনা দূতাবাসের উপপ্রধান হুয়ালং ইয়ানকে ডেকে ‘সরকারের বিরক্ত’ হওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের মহাপরিচালক কাজী রাসেল পারভেজ। 

দূতাবাস উপপ্রধানকে বলা হয়, মূল পদ্মা সেতু এবং এর সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন অংশে চীনা কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ নিতান্তই ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছে। সেতুসহ পুরো প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় মেটাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। 

এ অবস্থায় এই সেতুকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ দাবি বাস্তবতাবিবর্জিত। আর এ-সম্পর্কিত প্রচারণায় দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের যুক্ত হওয়া কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। 

একইসঙ্গে নানামুখী যোগাযোগের একপর্যায়ে দূতাবাস (২২ জুন) বুধবারের আলোচনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ সম্ভব হবে না বলে আয়োজকদের জানিয়ে দেয়। এ প্রসঙ্গে ফোরামের চেয়ারম্যান দিলীপ বড়ুয়া  বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি স্থগিত করেছি।’ অনুষ্ঠান বাতিলের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সিকোয়েন্স মিলছে না।’  এএনআই 

 

 

 

ইত্তেফাক/এসআর