শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কক্সবাজারে পুকুরে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেলো কলেজ ছাত্রের

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ১৭:০৪

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কর্তৃক সংস্কার করা কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা পুকুরে গোসল করতে নেমে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (২৪ জুন) বেলা ১১ টার দিকে তিনি পুকুরে ডুবে যান এবং বিকেল ৪ টার তার লাশ উদ্ধার করা হয়।  

সলিল সমাধি হওয়া মারুফুল ইসলাম মাহি (১৯) কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ রুমালিয়ারছরা টেকনাইপ্পা পাহাড় এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে। তিনি কক্সবাজার সিটি কলেজের বিএম একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মাহির বন্ধু ইয়াছরিফ রশিদ তামিম জানায়, সকাল ৯টার দিকে তারা ৯ বন্ধু রুমালিয়ারছরা পিটিআই মাঠে ফুটবল খেলে। ঘন্টাখানেক পর তারা ৯ বন্ধু সদ্য সংস্কার হওয়া বাজারঘাটা পুকুরে (নাপিতাপুকুর) গোসল করতে নামে। এদিক-ওদিক সাতার কাটতে কাটতে বেলা ১১টার দিকে সবাই তীরে উঠে আসি। কিন্তু সিঁড়িতে মাহিকে দেখা যাচ্ছিল না। তখন সবাই মিলে পুকুরে তাকে খুঁজতে থাকি। ধারণা করছি সাঁতার কাটা কালে অকস্মাৎ মাহি পানিতে ডুবে গেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক নূর বলেন, সহপাঠীরা বন্ধুকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে পরিবারে বাবা-মাকে কল করে। স্বজনরা আসার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করে ফায়ারসার্ভিসকে বিষয়টি অবগত করা হয়। দমকলকর্মীরা এসে পুকুরে নামে। দীর্ঘ আড়াইঘন্টা চেষ্টা চালিয়েও তারা মাহিকে খুঁজে পায়নি। পরে সৈকতে কাজ করা লাইফগার্ড কর্মীরা এসে দমকলবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়। বাবা-মা ও স্বজনদের আহাজারিতে পুকুর পাড়ের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। ঘন্টাখানেক পর লাইফগার্ড কর্মীরা মাহীকে পুকুরের পূর্বপাড়ের কাছাকাছি এলাকা হতে তুলে আনে। তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে যাওয়া এক তরুণকে বিকেলে হাসপাতালে আনা হয়। তার নাক-মুখ দিলে ফেনা ও রক্ত বের হচ্ছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। দম আটকে গেলে স্ট্রোক জনিত কারণেও এমনটি হতে পারে। 

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, বাজারঘাটার পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া এক তরুণ শিক্ষার্থীর লাশ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। তার পরিবারের সিদ্ধান্তের ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/এমএএম